Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > বাংলাদেশের প্রথম সফটওয়্যার প্যাটেন্ট
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: মোস্তাফা জব্বার
মোট লেখা:১২৯
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০০৭ - অক্টোবর
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
সফটওয়্যার প্যাটেন্ট
তথ্যসূত্র:
উদ্যোগ
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
বাংলাদেশের প্রথম সফটওয়্যার প্যাটেন্ট

সুদীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর সংগ্রামের পর গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০০৭-এ বাংলা স্ক্রিপ্ট ইন্টারফেস সিস্টেম নামে একটি প্যাটেন্টের প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর করেছেন প্যাটেন্ট ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস-এর নিবন্ধক মেসবাহউদ্দিন আহমেদ৷ ২০০৪ সালের ২৯ জুলাই এই ব্যতিক্রমী প্যাটেন্টটির অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়৷ প্রকৃত সত্য হচ্ছে ১৯৯২ সালে প্রথম এই প্যাটেন্টটির জন্য আবেদন করা হয়৷ কিন্তু সেই সময় প্যাটেন্ট অধিদফতর এই আবেদনটি গ্রহণ করেনি৷ এর অন্যতম কারণ ছিল, এটি সফটওয়্যার হিসেবে কিভাবে প্যাটেন্ট অনুমোদন পাবে সেটি তখন নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি৷ এমনকি এই প্যাটেন্টটি পরীক্ষা করার মতো জ্ঞানী কোনো কর্মকর্তাও তখন ছিলো না৷ কিন্তু ২০০৪ সালের আবেদনটি বিবেচনা করা হয় নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত ১০ মে ২০০৭ তারিখে এই প্যাটেন্টটির গেজেট নোটিফিকেশন প্রকাশ করা হয়৷ নিয়ম অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের ১২০ দিনের মাঝে এ ব্যাপারে কোনো আপত্তি না ওঠায় এর প্রত্যয়নপত্র দেয়া হয়৷ আপাতদৃষ্টে এটি একটি সাধারণ ও নিয়মিত ঘটনা মনে হলেও বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূণ ঘটনা৷

এই প্যাটেন্টটির মতো বহু প্রত্যয়নপত্রে নিবন্ধক প্রায় প্রতিদিনই স্বাক্ষর করে থাকেন৷ বলা যেতে পারে, এমন শত শত প্রত্যয়নপত্র তার দফতর থেকে নিয়মিত ইস্যু করা হয়ে থাকে৷ কিন্তু এই প্রত্যয়নপত্রটির একটি বাড়তি বিশেষত্ব রয়েছে৷ এই বিশেষত্বটি হলো : এটিই বাংলাদেশের প্রথম প্যাটেন্ট, যা কার্যত একটি সফটওয়্যার৷ বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এটি একটি মাইলফলক৷ আগামীতে বাংলা স্ক্রিপ্ট ইন্টারফেস সিস্টেমের দৃষ্টান্তটি আরো ব্যাপকভাবে আমাদের এই শিল্পে বার বার উল্লিখিত হবে-এটি নিশ্চিত করে বলা যায়৷

প্যাটেন্ট খুবই গুরুত্বরপূণ

বাংলাদেশে যারা সৃজনশীল কাজ করেন তাদের কাছে কপিরাইট শব্দটি ব্যাপকভাবে পরিচিত৷ এর সাথে সিনেমা, সঙ্গীত, চিত্রকলা, ভাস্কর্য ও সফটওয়্যার জড়িত৷ সিনেমা, সঙ্গীত, চিত্রকলার ব্যাপারে এটি সত্য যে কপিরাইটই হলো এর একমাত্র মেধাস্বত্ব৷ কার্যত কপিরাইটের বাইরে এসব সৃজনশীল কাজের আর কোনো সুরক্ষার ব্যবস্থা নেই৷ কপিরাইট কোনো মেধাসম্পদের কপি বা নকল করার বিষয়ে কপিরাইট স্বত্ববানকে রক্ষা করে৷ আমাদের সাধারণ ধারণা, কপিরাইটই হলো সফটওয়্যারের প্রধান মেধাস্বত্ত্ব সুরক্ষা৷ কিন্তু বাস্তবতা হলো, কপিরাইট সফটওয়্যারের কপি বিতরণ করা বন্ধ করে৷ কিন্তু সফটওয়্যারের সাথে যে নির্মাণকৌশল ও কর্মপ্রক্রিয়া জড়িত সেটি কপিরাইটে রক্ষা করা হয় না৷ যেমন একটি ইঞ্জিনের লোহালক্কড় মেধাস্বত্ব নয়, বরং এর নির্মাণ ও কাজ করার প্রক্রিয়াটিই মেধাস্বত্ব৷ এর মাঝে বিদ্যমান মেটালটি একটি সাধারণ বিষয় মাত্র৷ একটি ওষুধের ফর্মুলাই হচ্ছে তার বড় মেধাস্বত্ব৷ এর মাঝে যে উপাদানগুলো আছে, তার কি পরিমাণ কিভাবে মিশ্রণ করার ফলে ওষুধটি কাজ করবে এই ফর্মুলাটি হলো এর মেধাস্বত্ব৷ কপিরাইট এই প্রক্রিয়াটির মেধাস্বত্বকে সংরক্ষণ করে না৷ তবুও আমরা মেধাস্বত্ব বলতে কপিরাইটকেই বেশি সময় বুঝিয়ে থাকি৷ সম্ভবত সেজন্যই আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই কপিরাইটের বিধান সংরক্ষণ করার জন্য আন্দোলন করে এসেছি এবং ২০০০ সালের কপিরাইট আইনে সেটি অন্তরভূক্তও হয়৷ বস্তুত বার্ণ কনভেনশন অনুযায়ী সফটওয়্যার সাহিত্যকর্ম হিসেবে কপিরাইটের আওতায় আসে৷ ২০০৫ সালে বাংলাদেশের কপিরাইট আইনটির আরো সংশোধন হয় এবং আইনগতভাবে সফটওয়্যারের কপিরাইট এখন সুরক্ষিত, যদিও এখনো আইনটির কোনো প্রয়োগ৷ কিন্তু সফটওয়্যার উন্নয়নকারীদের মাঝে এখনো এই ধারণা কাজ করে না যে, কপিরাইটের বাইরেও আমাদের মেধাস্বত্ব সুরক্ষা করা দরকার৷

মেধাস্বত্ব নির্ভর করে তিনটি আইনের ওপর৷ কপিরাইট আইন হলো এর একটি৷ কপিরাইট আইনের বাইরে প্যাটেন্ট ও ডিজাইন আইন এবং ট্রেডমার্কস আইন রয়েছে৷ দুর্ভাগ্যক্রমে প্যাটেন্ট ও ডিজাইন আইনটি ব্রিটিশদের প্রণীত৷ এটি ১৯১১ সালের৷ এই উপমহাদেশের জন্য এই আইনটি ব্রিটিশরা প্রণয়ন করেছিল৷ ভারতে সেই আইনটির সংশোধন করা হয়েছে ১৯৭০ সালে৷ পাকিস্ানে ২০০০ ও ২০০২ সালে প্যাটেন্ট আইন প্রবর্তন করা হয়৷ উভয় দেশেই ট্রেডমার্কস আইনও বদলানো হয়৷ কিন্তু বাংলাদেশে প্যাটেন্ট আইনটির কোনো সংশোধন করা হয়নি৷ ট্রেডমার্কস আইনটিও ১৯৪০ সালের৷ এর ও এখন পর্যন্ত কোনো পরিবর্তন হয়নি৷ তবে এই আইনটি পরিবর্তনের জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে৷ কিন্তু কিছু লোকের ক্ষুদ্র সুবিধার ও স্বার্থের কথা বিবেচনা করে প্যাটেন্ট আইনটি পরিবর্তনের কোনো আয়োজনই নেই৷ সরকার সম্ভবত ২০১৩ সালের আগে এই আইনটি বদলাতে চায় না৷ এর ফলে যে সফটওয়্যার শিল্পের মতো আরো কিছু শিল্পের ক্ষতি হচ্ছে, তা সরকারের বিবেচনায় আছে বলে মনে হয় না৷

প্যাটেন্টের সূচনা

ধারণা করা হয়, প্রাচীন গ্রীক সমাজে কোনো কোনো নগরে প্যাটেন্ট প্রথা চালু ছিলো৷ সেটি শুরু হয়েছিলো খাবার দিয়ে৷ চমত্কার একটি রান্নার প্রণালীকে উদ্ভাবকের নিজস্ব আবিষ্কার হিসেবে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য, যেমন এক বছর, অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারবে না এমন বিধান করা হতো৷ প্রাচীন রোমেও এমন ব্যবস্থা চালু ছিলো৷ ১৪৭৪ সালে ইটালিতে প্রথম আধুনিক প্যাটেন্ট ব্যবস্থা চালু হয়৷ ভেনিস প্রজাতন্ত্র একটি ডিক্রি জারি করে যে, নতুন আবিষ্কারের তথ্য প্রজাতন্ত্রকে জানাতে হবে, যাতে আবিষ্কারক তার আবিষ্কারের প্যাটেন্ট রাইট পেতে পারেন৷ ইংল্যান্ডে ১৬২৩ সালে রাজা জেমস-১-এর অধীনে নতুন আবিষ্কারের প্রকল্পের জন্য প্যাটেন্ট অধিকার প্রদানের বিধান ঘোষণা করা হয়৷ ওই দেশের রানী অ্যানের আমলে (১৭০২-১৪) আইনজ্ঞরা এই প্যাটেন্ট পাবার জন্য একটি লিখিত বিবরণ প্রদানের ব্যবস্থা করেন৷ সেই ব্যবস্থাটি এখনো প্যাটেন্ট ব্যবস্থার সাথে জড়িত আছে৷

এটিই বাংলাদেশের প্রথম প্যাটেন্ট, যা কার্যত একটি সফটওয়্যার৷ বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এটি একটি মাইলফলক৷ আগামীতে বাংলা স্ক্রিপ্ট ইন্টারফেস সিস্টেমের দৃষ্টান্তটি আরো ব্যাপকভাবে আমাদের এই শিল্পে বার বার উল্লিখিত হবে-এটি নিশ্চিত করে বলা যায়৷

১৭৭৮-৭৯ সময়কালে আমেরিকার অনেক রাজ্য নিজস্ব প্যাটেন্ট ব্যবস্থা চালু করে৷ এর ফলে কার্যত একটি বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির উদ্ভব হয়, যা পড়ে ফেডারেল সরকার একীভূত করে৷ এই উদ্দেশ্যেই আমেরিকান কংগ্রেস ১৭৯০ সালে প্যাটেন্ট আইন পাস করে৷ ১৭৯০ সালের ৩১ জুলাই পটাশের প্যাটেন্ট প্রদানের মধ্য দিয়ে আমেরিকায় প্যাটেন্টের যাত্রা শুরু হয়৷ তবে প্রথম দিকে প্যাটেন্ট কার্যত যাও ছিলো রসায়ন ইত্যাদির প্রক্রিয়াভিত্তিক৷ যেহেতু ইউরোপে শিল্পবিপ্লব হয় সেহেতু ইউরোপেই প্রথম এই চাপটি বেশি অনুভূত হয় যে, আবিষ্কারকে রক্ষা করতে হবে৷ পরে সেটি আমেরিকাতেও প্রভাব ফেলে৷ বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এই প্যাটেন্ট ব্যবস্থার ফলেই পৃথিবীতে সব আবিষ্কারক নতুন নতুন আবিষ্কার করতে উত্সাহিত হয়েছেন৷ সমাজে যেভাবে বস্তুগত পণ্যের মালিকানা দাবি করা যায়, প্যাটেন্ট ব্যবস্থা মেধাজাত সম্পদের ক্ষেত্রে সেই মালিকানা প্রদান করে বলেই এর গুরুত্ব অনেক৷ এক সময়ে ইউরোপে এমনকি জমিরও প্যাটেন্ট দেয়া হতো৷ সেটি ছিলো জমির ওপর মালিকানা প্রদানের ব্যবস্থা৷ পরে অবশ্য সেই ব্যবস্থা বদলে যায়৷

সফটওয়্যার ও প্যাটেন্ট

২১ মে ১৯৬২ সালে ব্রিটেনে প্রথম সফটওয়্যার প্যাটেন্ট পাবার জন্য আবেদন করা হয়৷ লিনিয়ার প্রোগ্রামিং সমস্যার সমাধানের জন্য A Computer Arranged for the Automatic Sollution নামের এই প্যাটেন্টটি ১৭ আগস্ট ১৯৬৬ অনুমোদিত হয়৷ এরপর বিগত চার দশকে সারা দুনিয়ায় সফটওয়্যারের প্যাটেন্ট দেয়ার ব্যবস্থা হয়েছে এবং নানা বিতর্ক থাকার পরও সফটওয়্যারের প্যাটেন্টকেই সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ বলে মনে করা হয়৷

ব্রিটেনে সফটওয়্যারের প্যাটেন্ট চালু হবার পরও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সফটওয়্যার প্যাটেন্ট দেয়া হতো না৷ মার্কিন প্যাটেন্ট অফিস বৈজ্ঞানিক সত্য বা গণিতের বিষয়কে প্যাটেন্ট দিতো না৷ তাদের বক্তব্য ছিল, এটি সার্বজনীন৷ কোনোভাবেই এসব ব্যক্তিগত সম্পদ হতে পারে না৷ কিন্তু অবস্থা পাল্টে যায় আমেরিকার সুপ্রীমকোর্টে একটি মামলা দায়ের ও তার রায়ের পর৷ ১৯৮১ সালে ডায়ম বনাম ডারে মামলায় আমেরিকান সুপ্রীমকোর্ট রায় দেয় যে, সফটওয়্যার প্যাটেন্ট করা যেতে পারে৷ আদালতের বক্তব্য ছিল এরকম, যদিও এলগরিদম প্যাটেন্টযোগ্য নয়, তথাপি যেসব যন্ত্র এই এলগরিদম ব্যবহার করে তাকে অবশ্যই প্যাটেন্ট করা যায়৷ এই রায়ের পর আমেরিকায় প্যাটেন্টের জন্য আলাদা একটি আদালতও প্রতিষ্ঠা করা হয়৷ ১৯৯০ সালেই প্রথম আমেরিকায় কমপিউটার সংক্রান্ত প্যাটেন্টের গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়৷

ইউরোপে সফটওয়্যারের প্যাটেন্টের জন্য বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি৷ ১৯৭০ সালে ইউরোপীয় প্যাটেন্ট কনভেনশন হবার পর ইউরোপে অসংখ্য সফটওয়্যারের প্যাটেন্ট দেয়া হয়েছে৷ ইউরোপীয় প্যাটেন্ট কনভেনশনের ৫২(২) অনুযায়ী কমপিউটারের প্রোগ্রাম প্যাটেন্ট করা যায় না৷ কিন্তু ৫২(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কমপিউটার প্রোগ্রামও প্যাটেন্ট করা যায় যদি সেটি কোন কারিগরি সমাধান দেয়৷

বিশ্বের অন্যান্য দেশেও সফটওয়্যার প্যাটেন্ট করা যায়৷ জাপানে সফটওয়্যার সরাসরি প্যাটেন্টযোগ্য৷ পাকিস্তান এবং ভারতে সফটওয়্যার প্যাটেন্টযোগ্য৷ অস্ট্রেলিয়ায় সফটওয়্যার প্যাটেন্টযোগ্য৷

প্যাটেন্ট কি?

প্যাটেন্ট হলো কোনো আবিষ্কারের প্রক্রিয়াকে সরাসরি সময়মতো প্রকাশ করা, আবিষ্কারের জন্য নিয়োজিত বিনিয়োগ সুরক্ষা করা এবং আবিষ্কারকে বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করার পথ৷ এই ব্যবস্থায় একটি প্রক্রিয়ার পূণ ও বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করার পর আবিষ্কারককে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য তার আবিষ্কার এককভাবে ব্যবহার করার অধিকার প্রদান করা হয়৷

সফটওয়্যারের প্যাটেন্ট নিয়ে এখনো দুনিয়াজুড়ে বেশ কিছু বিতর্ক আছে, যেমনটি আছে কপিরাইট এবং কপি লেফট নিয়ে, তেমনটি প্যাটেন্ট নিয়েও বিতর্ক ও মতপার্থক্য প্রচুর৷ কম্প্যাটিবিলিটি বা প্লাটফরম ডিপেন্ডেÝ Ges mf¨Zvi PvKv mvg‡b hvIqv wb‡q c¨v‡U›U weZK© হq। থাকে৷ দৃষ্টান্ত হিসেবে বলা হয়, পিএনজি ফরমেট আবিষ্কৃত হয় জিফ ফরমেটের প্যাটেন্ট ভায়োলেট না করার জন্য৷ অনেক সফটওয়্যার কোম্পানি যেমন ওরাকল বা রেডহ্যাট সফটওয়্যার প্যাটেন্টের বিরোধিতা করে থাকে৷ কিন্তু এই দুটি কোম্পানিই আবার নিজেদের পণ্যের জন্য প্যাটেন্ট গ্রহণ করে থাকে৷ এমনকি কেউ কেউ মনে করেন, কপিরাইট এবং প্যাটেন্ট কার্যত একই কাজ করে৷ কপিরাইটের উদ্দেশ্যের বাইরে প্যাটেন্টের সীমানা৷ কপিরাইট যেখানে কেবল নকল করা প্রতিরোধ করে সেখানে প্যাটেন্ট একটি প্রক্রিয়াকে সুরক্ষা করে৷ সফটওয়্যার উন্নয়নকারীদের জন্য এই প্রক্রিয়াটিকে সুরক্ষা করা খুবই জরুরি৷

ওপেন সোর্স ও প্যাটেন্ট

আমরা সচরাচর ওপেন সোর্স সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে কপিরাইট নেই বলে মনে করি৷ কিন্তু মজার ঘটনাটি ঘটে এর প্যাটেন্ট নিয়ে৷ ওপেন সোর্স প্রকল্পে কপিরাইটকে তেমন গুরুত্ব না দিয়েও প্যাটেন্টকে কিন্তু বর্জন করা হয় না৷

এর অর্থ হচ্ছে কপি করা বা নকল করার ক্ষেত্রে কারো কারো উদারতা থাকলেও আবিষ্কারের ক্ষেত্রে ওপেন সোর্সের উদ্ভাবকদের আকর্ষণ কম নেই৷ সফটওয়্যারের প্যাটেন্ট খুবই গুরুত্বপূণ বিষয়৷ বাণিজ্যিকভাবে সফটওয়্যার তৈরিই হোক আর ওপেন সোর্সই হোক প্যাটেন্ট কার্যত আবিষ্কারকের স্বার্থকে ব্যাপকভাবে রক্ষা করে৷ এ প্রসঙ্গে ট্রিপস চুক্তির অধীনে সফটওয়্যারের প্যাটেন্ট, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কনভেনশনের আওতায় সফটওয়্যারের প্যাটেন্ট এবং কমপিউটার প্রোগ্রামস অ্যান্ড দি প্যাটেন্ট কো-অপারেশন ট্রিটি নামের আন্তর্জাতিক বিষয়গুলোর প্রতি নজর দেয়া যায়৷ এ ছাড়াও দেশীয় প্যাটেন্ট আইনগুলো এজন্য প্রয়োগ করা যেতে পারে৷

প্যাটেন্টের প্রয়োগ

বাংলাদেশের কপিরাইট ও অন্যান্য মেধাস্বত্বের বিদ্যমান অবস্থা দেখে এটি মনে করা হতে পারে, প্যাটেন্ট আইন সম্ভবত প্রয়োগ করা যায় না৷ কিন্তু আমরা যদি আমেরিকার দৃষ্টান্তগুলোর প্রতি একটু নজর দিই তাহলে দেখা যাবে, প্যাটেন্টস্বত্ব অত্যন্ত ভালোভাবেই প্রয়োগ করা যায়৷ সম্ভবত এজন্যই আমেরিকায় প্যাটেন্টের জোয়ার বইছে৷ ২০০৪ সালের হিসেবে অনুযায়ী আমেরিকায় সফটওয়্যারের প্যাটেন্ট ছিলো ১.৪৫ লাখ৷ বাংলাদেশে যেখানে ২০০৭ সালে একটিমাত্র প্যাটেন্ট দেয়া হয়েছে সেখানে ২০০৪ সালের মাঝেই আমেরিকায় যদি এত বিপুল পরিমাণ প্যাটেন্ট দেয়া হয়ে থাকে, তবে বুঝা যাবে যে আসলে আমরা সফটওয়্যারের শৈশবেই নেই৷

জাপানে মাটসুসিটা কোম্পানি জাস্ট সিস্টেম নামের একটি কোম্পানিকে তাদের প্যাটেন্ট ইনফ্রিন্‌জ করার জন্য আদালতে মামলা করলে হাইকোর্ট মাটসুসিটার পক্ষে রায় দেয়৷ তবে অনেক সফটওয়্যার কোম্পানি প্যাটেন্টের ক্রস লাইসেন্স করে থাকে৷ এর ফলে একের প্রযুক্তি অন্যে ব্যবহার করতে পারে৷ মাইক্রোসফট, আইবিএম, সান, স্যাপ, এইচপি, সিমেন্স, সিসকো এবং অটোডেস্কের পর নভেল এর সাথে চুক্তি করেছে৷

প্যাটেন্ট হলো কোনো আবিষ্কারের প্রক্রিয়াকে সরাসরি সময়মতো প্রকাশ করা, আবিষ্কারের জন্য নিয়োজিত বিনিয়োগ সুরক্ষা করা এবং আবিষ্কারকে বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করার পথ৷ এই ব্যবস্থায় একটি প্রক্রিয়ার পূণ ও বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করার পর আবিষ্কারককে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য তার আবিষ্কার এককভাবে ব্যবহার করার অধিকার প্রদান করা হয়৷

বাংলাদেশে সফটওয়্যারের প্যাটেন্ট

বাংলাদেশের প্যাটেন্ট আইনটি পুরনো বলে এই আইনের আওতায় সফটওয়্যার হিসেবে প্যাটেন্ট গ্রহণ করার কোনো বিধান নেই৷ কিন্তু যেহেতু এখানে কোনো কোড জমা দিতে হয় না বা এর সাথে যেহেতু ম্যানুয়েল ইত্যাদি দিতে হয় না সেহেতু যেকেউ প্যাটেন্টের বিবরণ যথারীতি লিপিবদ্ধ করে প্যাটেন্টের জন্য আবেদন করতে পারেন৷ এই স্পেসিফিকেশনটি রচনা করাই সম্ভবত একটু দুরূহ কাজ৷ আমি নিচে বাংলা স্ক্রিপ্ট ইন্টারফেস সিস্টেমের ক্লেইম অংশটি তুলে ধরছি৷

1. A new Keyboard layout to write Bongolipi characters with a QWERTY based Keyboard in a computer or any other microprocessor based device has been invented and 55 Bangla characters are placed in a unique way so that all Bangla characters (Bongolipi) can be written without any hardware modification and to make it effective pairs of Bangla charactaers e.g has been created whereas Roman character (g) or Bangla character && (hasanta) has been defined as the link key to create vowels except A & I and almost all conjuncts. 2. A few special encoding has been done to implement the claim described in Claim 1.

সার্বিকভাবে আমি অত্যন্ত বিনীতভাবে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তির মানুষজনকে তাদের উদ্ভাবিত সফটওয়্যারের প্যাটেন্ট গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করবো৷ এর ফলে দেশে নতুন নতুন আবিষ্কারের কাজ হবে৷ বিশেষত নতুন নতুন সফটওয়্যারের জন্ম নেবে বলেই আমি এই কাজটি করার জন্য উত্সাহিত করতে চাই৷
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
২০০৭ - অক্টোবর সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস