Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > লেখা > ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে বিসিসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: কামাল আরসালান
মোট লেখা:৫৩
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০০৯ - নভেম্বর
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
ডিজিটাল সিগন্যাল
তথ্যসূত্র:
রির্পোট
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
রেটিং: ০ মন্তব্য:০
ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে বিসিসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে

বাংলাদেশ কমপিউটার কাউন্সিল তথা বিসিসি বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণাধীন একটি সংস্থা। বিসিসি দেশে তথ্য যোগাযোগপ্রযুক্তির উন্নয়ন ও ব্যবহার সম্প্রসারণে দায়িত্বে নিয়োজিত শীর্ষস্থানীয় সংস্থা। প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে :

০১.
তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত জাতীয় কৌশল ও নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।

০২.
তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট মানবসম্পদের উন্নয়ন।

০৩.
সরকারি বিভাগ ও সংস্থাগুলোকে কমপিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় উপদেশ দেয়া ইত্যাদি।



বিসিসি’র বর্তমান কার্যক্রমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো : জাতীয় আইসিটি নীতিমালা-২০০৯ প্রণয়ন, ই-গভর্নেন্স, কৌশলপত্র প্রণয়ন ও আইসিটি রোডম্যাপ/কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ইত্যাদি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ রূপান্তরের অঙ্গীকার ঘোষণা করায় এখন বিসিসি’র দায়িত্ব বহুলাংশে বেড়েছে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকা গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট নতুন পরিকল্পনাগুলোও কার্যকর করতে হবে। বিসিসি’র এই বিশেষ মুহূর্তে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনার দায়িত্বে আছেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক মো: মাহফুজুর রহমান।

সম্প্রতি তার কাছে জানতে চাওয়া হয় ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপায়ণের জন্য বিসিসি কী কী পদক্ষেপ নেবে। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত ডিজিটাল বাংলাদেশের অর্থ ও তাৎপর্যের গভীরতা অনেক বেশি। এখানে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশসহ আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িত। ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপরেখা বাস্তবায়নে শুধু বিজ্ঞান ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ই নয়, সরকারের সব মন্ত্রণালয়কে একসাথে, একযোগে এবং একই গতিতে কাজ করতে হবে।

মাহফুজুর রহমান বলেন, বিসিসি টপ টু বটম ডিজিটাইজ্ড ব্যবস্থার আওতাধীন। বিসিসি’র সব কর্মকর্তা-কর্মচারী আইসিটি লিটারেট। এভাবে সরকারের প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী আইসিটি লিটারেট হলেই ডিজিটাল বাংলাদেশের কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, সরকার অনুমোদিত জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি নীতিমালা-২০০৯ পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে, সেখানে ১০টি লক্ষ্য, ৫৬টি করণীয় বিষয় এবং ৩০৬টি কার্যক্রম রয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের জন্য নেয়া লক্ষ্যে বিসিসি মূলত এই বিষয়গুলোই প্রাধান্য দেয়ার চেষ্টা করছে। এই লক্ষ্যের প্রথমেই রয়েছে ন্যায়পরায়ণতা এবং সাম্য। তাছাড়া কৌশলগত বিষয় রয়েছে ১০টি, প্রোডাকটিভিটিতে রয়েছে ৫টি কৌশল, অখন্ডতায় রয়েছে ৬টি, শিক্ষা ও গবেষণায় ৯টি, কর্মসংস্থানে ৫টি, রফতানি ও উন্নয়নে ৫টি, স্বাস্থ্য পরিচর্যায় ৪টি, পরিবেশ জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ৫টি এবং আইসিটি’র ওপর ৮টি কৌশল রয়েছে।

মাহফুজুর রহমান বলেন, দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপায়িত করতে হলে সবার আগে সরকারের সব অঙ্গসংগঠন ও মন্ত্রণালয়কে ডিজিটাইজ্ড হতে হবে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইসিটি সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে ডিজিটাইজ্ড হতে হবে। তিনি আরো বলেন, সাধারণ মানুষকে ডিজিটাইজেশনের অধীনে আনতে হলে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে আইসিটি’র ওপর বিভিন্ন প্রচার ও উদ্বুদ্ধকরণমূলক সভার আয়োজন করতে হবে। প্রয়োজনে জেলা থেকে উপজেলা, ইউনিয়ন এমনকি মাঠ পর্যায়ে এসব প্রচার চালাতে হবে। আইসিটি’র ওপর সভা-সেমিনার আয়োজন করতে হবে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন লাইব্রেরিতে। এক্ষেত্রে শুধু আইসিটি এককভাবে কোনো মন্ত্রণালয় নয় বরং সরকারের সব মন্ত্রণালয়কে একযোগে কাজ করতে হবে। এই লক্ষ্যে সরকারি মন্ত্রণালয়গুলোর কী কী কার্যক্রম ও পরিকল্পনা নেয়া যেতে পারে, কোন মন্ত্রণালয়ের কী কাজ হতে পারে, এ প্রসঙ্গে মাহফুজুর রহমান বলেন, এসব দিক বিবেচনা করে তারা এর ওপর একটি বই প্রকাশ করেছেন। এসব নীতিমালা ও কার্যক্রমের ধারাবাহিকতার আওতায় বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদী, মধ্যমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী কার্যক্রম বর্ণনা করা হয়েছে বইটিতে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের জন্য গড়ে তোলা দরকার আইসিটি জ্ঞানভিত্তিক একটি শিক্ষিত সমাজ। তিনি বলেন, এই উদ্দেশ্যে তারা একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছেন। এই প্রকল্পের অধীনে তারা দেশের ছয়টি বিভাগে ছয়টি কমপিউটার ল্যাবরেটরি স্থাপন করেছেন। এই কমপিউটার ল্যাবরেটরিগুলোতে সারা বছরই প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। সাধারণ মানুষসহ যেকোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী-কর্মকর্তা- সবার জন্য এই কমপিউটার ল্যাবরেটরি উন্মুক্ত। তিনি আরও বলেন, তারা দেশের ৬৪টি জেলায় একটি করে স্কুলে ও একটি করে কলেজে কমপিউটার ল্যাব স্থাপন করে দিয়েছেন, যা প্রাথমিকভাবে শিক্ষকদের আইসিটি’র ওপর ট্রেনিং দিয়ে থাকে। শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে যেমন প্রশিক্ষিত শিক্ষকের প্রয়োজন, একইভাবে সুন্দর ও দক্ষ ম্যানেজমেন্টের জন্য দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মচারী-কর্মকর্তা প্রয়োজন। হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্টের প্রয়োজনীয়তার কথা অনুধাবন করেই মূলত তারা টিচার্স ট্রেনিং ও সাধারণ মানুষের জন্য বিসিসি ভবনে কমপিউটার ল্যাব স্থাপন করেছেন। আর এরই ধারাবাহিকতায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপ হবে বলে তিনি আশাবাদী। তাদের এই ট্রেনিং সেন্টার বিভিন্ন মডিউলে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর মৌলিক ও উচ্চতর প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। কমপিউটার ল্যাবটি কোরিয়া ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে করা হয়।

মাহফুজুর রহমান আরও বলেন, দুটি বড় কাজ এরা হাতে নিয়েছেন। একটি হলো হাইটেক পার্ক এবং অন্যটি আইটিডিসি (ইনফরমেশন টেকনোলজি ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল) কোম্পানি নামে একটি কোম্পানি চালু করা। হাইটেক পার্ক সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে যেসব আইসিটি গ্র্যাজুয়েট বের হচ্ছে, তাদের জন্য হাইটেক পার্ক একটি কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করবে। ফলে দেশে আইসিটি খাতে একটি চাকরির বাজার তৈরি হবে। এতে করে আইসিটি খাতে বিদেশী বিনিয়োগও বাড়বে। আইটিডিসি সম্পর্কে তিনি বলেন, যেসব ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে সরকারিভাবে অভিজ্ঞ ও দক্ষ আইসিটি গ্র্যাজুয়েট বা সফটওয়্যার প্রকৌশলী নিয়োগ দেয়া সম্ভব নয়, সেসব ক্ষেত্রে আইসিডিসি প্রতিষ্ঠানটি নিয়োগ দেবে। এর ফলে দেশের মেধাবী কুশলীদের বিদেশে যাওয়া থেকে ভালো কাজ করে তাদেরকেও আকৃষ্ট করা যাবে। এছাড়া তাদের অন্যান্য কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে ইন্টার্নশিপ ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থাপনার অধীনে তারা প্রতিবছর ৫০০ শিক্ষার্থীকে ইন্টার্নশিপ ও সরকারি সহায়তা দিয়ে থাকেন।

তিনি বলেন, যদি মোবাইল, কমপিউটার ও ল্যাপটপের ওপর থেকে ধার্য করা ভ্যাট ন্যূনতম পর্যায়ে নির্ধারণ করা হয়, তাহলে ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপায়ণে সাধারণ জনগণও কাজ করার সুযোগ পাবে ও অনুপ্রাণিত হবে। ইন্টারনেটের ওপর উচ্চহারের ভ্যাটও আগামী বাজেটে কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদী।

কাওরান বাজারে বিএসআরএস ভবনে বিসিসি’র তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ইনকিউবেটরের সাফল্য লক্ষ করে সংশ্লিষ্ট সবাই দ্বিতীয় ইনকিউবেটর স্থাপনের চিন্তাভাবনা করছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বিসিসি ভবনকে বর্তমানে ১৫ তলাবিশিষ্ট ভবনে সম্প্রসারণ করা হবে। সেখানেই দ্বিতীয় ইনকিউবেটর স্থাপন সম্ভব হবে। এবছর এই খাতে কিছু টাকা বরাদ্দও দেয়া হয়েছে। মহাখালীতে ২০তলা ভবনবিশিষ্ট আইটি ভিলেজের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। সেখানেও দ্বিতীয় ইনকিউবেটর স্থাপন সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

উপজেলা পর্যায়ে কমপিউটার ল্যাবরেটরি স্থাপনের ব্যাপারে তিনি বলেন, প্রতিটি উপজেলার দুইটি স্কুলে ৫টি কমপিউটারবিশিষ্ট একটি করে কমপিউটার ল্যাব এবং ঢাকা শহরে ২০টি কমপিউটার ল্যাব স্থাপনের প্রস্তাব রেখেছেন তারা। অনুমোদন যদি হয়ে যায়, তবে কাজ শুরু করা যাবে ডিসেম্বর-জানুয়ারি নাগাদ। হয়ত আগামী বছরের শেষের দিকে আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া যাবে। হাইটেক পার্ক সম্পর্কে তিনি বলেন, হাইটেক পার্কের প্রথম পর্যায়ের কাজ ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। হাইটেক পার্কের কার্যক্রম চালু করার জন্য কিছু নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। এগুলোর মধ্যে যেমন রাস্তাঘাট নির্মাণ, বিদ্যুত ব্যবস্থা, গ্যাস সরবরাহ, টেলিফোন সংযোগ প্রভৃতির ইমপ্লিমেন্টেশনের জন্য প্রায় ১৩০০ কোটি টাকা প্রয়োজন। এটি পিপিপি প্রজেক্টের মাধ্যমে করার একটি বড় সুযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে ডেভেলপারদের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

বর্তমানে কমপিউটার কাউন্সিলকে অধিদফতরে রূপান্তরিত করার যে জল্পনা-কল্পনা চলছে এ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে মাহফুজুর রহমান বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপায়ণের জন্য বর্তমান সরকার প্রণীত আইসিটি নীতিমালায় উল্লিখিত কার্যক্রমগুলোর বাস্তবায়ন করতে হলে কমপিউটার কাউন্সিলের কর্মকান্ড শুধু ঢাকায় চালু রাখলে চলবে না। সব জেলায় ও উপজেলায় এর কার্যক্রম সম্প্রসারিত করতে হবে। সেই সাথে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সাথেও কাজের পরিমাণ দ্রুত বেড়ে চলেছে। এ জন্য বিসিসির লোকবল বৃদ্ধি করতে হবে। তাই বিসিসির কর্মকান্ডকে বেগবান রাখতে হলে এটিকে অধিদফতরে রূপান্তরিত করলে ফল ভালো হবে।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, ইতোপূর্বে কিছু সংস্থাকে অধিদফতরে রূপান্তরিত করার পরও আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়নি। কিন্তু কমপিউটার কাউন্সিলকে একই মাপকাঠিতে ফেলা যাবে না। প্রয়োজনীয় লোকবল পরিকল্পনা অনুযায়ী ধীরে ধীরে বাড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব।

মাহফুজুর রহমানের দৃঢ়বিশ্বাস, বাংলাদেশ কমপিউটার কাউন্সিলের বর্তমান পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে। হাইটেক পার্ক, সফটওয়্যার ভিলেজ ও দ্বিতীয় ইনকিউবেটরের কার্যক্রমগুলো সফল হলে দেশের সফটওয়্যার শিল্পের ব্যাপক উন্নয়ন হবে। দেশের গার্মেন্টস শিল্পের মতো আইসিটি খাত থেকেও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে।

কজ ওয়েব

ফিডব্যাক : kkarsalan@yahoo.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস