Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > লেখা > মোবাইল ডিভাইসের অপারেটিং সিস্টেম এবং লিনআক্সের আধিপত্য
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: প্রকৌ. তাজুল ইসলাম
মোট লেখা:৭১
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১০ - অক্টোবর
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
লিনআক্সমোবাইল, 
তথ্যসূত্র:
প্রযুক্তি ধারা
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
রেটিং: ০ মন্তব্য:০
মোবাইল ডিভাইসের অপারেটিং সিস্টেম এবং লিনআক্সের আধিপত্য

আজকাল প্রতিটি ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসকে পরিচালনার জন্য এর অভ্যন্তরে সিস্টেম সফটওয়্যার জুড়ে দেয়া হয়। একে প্রযুক্তির ভাষায় অপারেটিং সিস্টেম (ও/এস) বলে। অনেকের মনে হতে পারে, পিসি বা কমপিউটার পরিচালনার জন্যই শুধু অপারেটিং সিস্টেমের প্রয়োজন হয়- আসলে তা নয়। এখন প্রায় প্রতিটি ইলেক্ট্রনিক গেজেটে এটি ব্যবহার হয়। তবে এগুলোর ধরন ও বৈশিষ্ট্যের আঙ্গিকে তারতম্য রয়েছে। আপনার হাতে যে ডিজিটাল ক্যামেরা বা মোবাইল ফোন রয়েছে অথবা আপনার ঘরে যে ডিভিডি প্লেয়ার বা টিভি (ডিজিটাল) রয়েছে- প্রতিটি বস্ত্তই বিশেষ বিশেষ ধরনের সিস্টেম সফটওয়্যার তথা অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করছে, যদিও আমরা অনেকেই এ ব্যাপারে অবহিত নই বা এ নিয়ে মাথা ঘামাই না। এ কথা সত্যি, যে যন্ত্রে যত বেশি ফিচার রয়েছে তার অপারেটিং সিস্টেম তত সমৃদ্ধ এবং ক্ষমতাশালী। সুতরাং ডিজিটাল ক্যামেরা বা টিভির সিস্টেম সফটওয়্যারের তুলনায় মোবাইল ফোন বিশেষত হাল আমলের স্মার্টফোনের অপারেটিং সিস্টেম বেশি শক্তিশালী। আবার অন্যদিকে স্মার্টফোনের তুলনায় পিসি/ম্যাকের অপারেটিং সিস্টেম আরো সমৃদ্ধ এবং ক্ষমতাশালী। কমপিউটারে আমরা যেমন অপারেটিং সিস্টেমের উপস্থিতি বুঝতে পারি তথা দৃশ্যমানতা পাই কিন্তু অন্যান্য যন্ত্রে তেমনিভাবে পাই না। কারণ, কমপিউটারকে আমরা বিভিন্নভাবে ব্যবহার এবং কনফিগার করার অবকাশ পাই। এ লেখার আলোচ্য বিষয় স্মার্টফোন ও একটি বিশেষায়িত কমপিউটার- যদিও এর পরিধি পিসি/ম্যাকের তুলনায় সীমিত।

১৫-২০ বছর আগের এনালগ মোবাইল ফোন বর্তমানে উৎকর্ষের চরমে পৌঁছেছে বলে মনে হয়। ডিজিটালে রূপান্তরিত হবার পর এটি শুধু ভয়েস নয় বরং ডাটা বিনিময়েরও উৎস হয়ে উঠেছে। ফলে ইন্টারনেট মোবাইল ফোনেও বিস্তৃতি লাভ করেছে। ই-মেইলসহ ইন্টারনেটের অন্য সব সুবিধা ও আহরণ করা যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, স্মার্টফোন নামধারী এসব মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট থেকে অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করে চালানো যাচ্ছে অর্থাৎ একটি পিসিতে যা কাজ করা যায় তার প্রায় অনেকটাই এ স্মার্টফোনে করা সম্ভব। বর্তমানে বাজারে প্রাপ্য মোবাইল ফোনের প্রায় ৮০-৯০% সেটই কমবেশি স্মার্টফোন, বিশেষ করে উচ্চমূল্যের। স্মার্টফোনের চরম উৎকর্ষ দেখিয়েছে অ্যাপলের আইফোন। ইতোমধ্যে বাজারে আইফোন ছাড়াও নোকিয়া, সনি এরিকসন, মোটোরোলা, এলজি, স্যামসাং, ব্লাকবেরি এবং HTC-এর বিভিন্ন ধরনের এবং বিভিন্ন মডেলের স্মার্টফোন পাওয়া যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার বাজারে অ্যাপলের আইফোন ব্লাকবেরি, HTC-এর বিভিন্ন মডেল এবং নোকিয়ার এন সিরিজের স্মার্টফোনগুলো ক্রমান্বয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।



এবার আসা যাক স্মার্টফোনের অপারেটিং সিস্টেমের যুদ্ধ প্রসঙ্গে। যুদ্ধ বলা হচ্ছে এ কারণে যে, উপরিউক্ত কোম্পানিগুলো নিজেদের অপারেটিং সিস্টেমকে ক্রমান্বয়ে উন্নত করার পাশাপাশি ডিভাইসেও উন্নত ফিচার ক্রমান্বয়ে যোগ করে যাচ্ছে। উন্নত ফিচারের মধ্যে ইতোমধ্যে টাচস্ক্রিন মাল্টি-টাচ, উন্নত রেজ্যুলেশন, জিপিএস নেভিগেটর ইত্যাদি। যেসব মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম বাজারে এসেছে সেগুলো হলো- (১) আইফোন অপারেটিং সিস্টেম (ওএস); (২) উইন্ডোজ মোবাইল/উইন্ডোজ ফোন; (৩) অ্যান্ড্রয়িড; (৪) ব্লাকবেরি অপারেটিং সিস্টেম; (৫) সিম্বিয়ান (Symbian); (৬) মিগো (Meego); (৭) ওয়েব ওএস (Web OS) ও (৮) বাডা (Bada)।

আইফোন ও/এস



অ্যাপলের আইফোন ওএস নিঃসন্দেহে একটি সূচারু ও বলিষ্ঠ মোবাইল প্লাটফরম। এতে টাচস্ক্রিন ইন্টারফেস সম্পৃক্ত হওয়ায় বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এর আরেকটি বিশেষ ফিচার Appstore-এর সাথে মসৃণ যোগাযোগ। ফলে সফটওয়্যার কেনা এবং ইনস্টল করা বেশ সহজ হয়েছে। অ্যাপলের এ অপারেটিং সিস্টেমটি মূলত ইউনিক্সভিত্তিক- যা ম্যাক ওএসএক্স-এরও ভিত্তি (Mac OSX), তবে এর কার্নেলকে এমনভাবে পরিশুদ্ধ এবং পরিশীলিত করা হয়েছে যাতে এটি ক্ষুদ্র ডিভাইস ও ক্ষুদ্র মেমরিতে প্রয়োগ করা যায়। যেখানে ম্যাক ওএসএক্স-কে ইন্টেল এক্স৮৬ প্রসেসরকে ভিত্তি করে নির্মাণ করা হয়েছে, সেখানে iphone OS-কে ARM প্রসেসরকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছে। এর কারণ আইফোনকে আর্ম (ARM) প্রসেসর দিয়ে প্রস্ত্তত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এর চতুর্থ সংস্করণ বের হয়েছে এবং আইফোন ফোরও (iphone 4) বাজারে এসেছে। পূর্ববর্তী ভার্সনগুলোর তুলনায় এতে নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে সীমিত মাল্টি-টাস্কিং সুবিধা। এছাড়াও সংযোজিত হয়েছে ‘গেম সেন্টার’- সামাজিক গেমিং নেটওয়ার্ক যা মাইক্রোসফট এক্সবক্স লাইভের অনুরূপ।

অ্যাপলের আইফোন ও/এস (অপারেটিং সিস্টেম) তিন শ্রেণীর ডিভাইসে ব্যবহার হচ্ছে। যেমন- আইফোন স্মার্টফোন, আইপড টাচ এবং হাল আমলের আইপ্যাড। আইফোন ও/এস-কে কাটছাঁট করে এ ডিভাইসগুলোতে বসানো হয়েছে। বিশে­ষকরা মনে করছেন, আইফোনের সফলতার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে Appstore রক্ষিত অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারের সুবিধা। বর্তমানে ২ লাখ অ্যাপ্লিকেশন এই স্টোরে মজুদ আছে।

উইন্ডোজ ফোন

মোবাইল প্লাটফরমে মাইক্রোসফট বর্তমানে দুটো ও/এস নিয়ে খেলা করছে। একটি হচ্ছে প্রাচীন উইন্ডোজ মোবাইল ৬.৫ ভার্সন এবং অন্যটি হচ্ছে সম্পূর্ণ নতুনভাবে লিখিত ও সজ্জিত উইন্ডোজ ফোন ৭ (সেভেন)। মাইক্রোসফট দীর্ঘ এক দশক ধরে উইন্ডোজ মোবাইলের অগ্রগতি সাধন করলেও পাম এবং ব্লাকবেরির সঙ্গে যুদ্ধে তেমন সাফল্য দেখাতে পারেনি। বর্তমানে অ্যান্ড্রয়িড প্রবলভাবে ধাক্কা দেবার ফলে মাইক্রোসফটের এই পণ্যটি ভয়াবহ অবস্থানে রয়েছে বলে বাজার বিশে­ষকরা মনে করছেন। মাইক্রোসফটের নতুন পণ্য উইন্ডোজ ফোন ৭ ক্রিসমাসের আগে আবির্ভূত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে মাইক্রোসফট তাদের পুরনো পণ্যকে ক্ল্যাসিক নাম দিয়ে এটির সমর্থন অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে। এদিকে HTC কোম্পানির বাজারজাত করা ক্ল্যাসিক (৬.৫) মডেলের স্মার্টফোনগুলো নতুন উইন্ডোজ ফোন ৭-এ উন্নীত করা সম্ভব হবে না। শুধু তা-ই নয় ডেভেলপারদের অ্যাপ্লিকেশনকে নতুন করে লিখতে হবে, কারণ উইন্ডোজ ফোন ক্ল্যাসিকের জন্য নির্মিত অ্যাপ্লিকেশন নতুন ও/এসে চলবে না। এটি নিঃসন্দেহে একটি পশ্চাৎপদতা। নতুন ও/এস উইন্ডোজ অ্যামবেডেড CE 6.0 কোড এবং মেট্রো নামের ইউজার ইন্টারফেস দিয়ে গড়ে তোলা হচ্ছে।



মাইক্রোসফটের মতে, উইন্ডোজ ৭ ভিত্তিক স্মার্টফোন আগামী ডিসেম্বরে বাজারে আসবে। যদিও অস্ট্রেলিয়াসহ সারাবিশ্বে ২০১১ সালের আগে পাওয়া যাবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। অ্যাপলের মতো মাইক্রোসফট ইউজার ইন্টারফেসকে ‘আবদ্ধ’ (Lock) করে দিতে চাচ্ছে। ফলে HTC, স্যামসাং ইত্যাদি কোম্পানি নিজেদের Skin (আবরণ) আর লাগাতে পারবে না। শুধু নতুন টাইলস এবং হাব সংযোজন করতে পারবে। ট্যাবলেট পিসি প্রাঙ্গণেও মাইক্রোসফট এই ও/এস-কে বিস্তৃত করতে চাচ্ছে। অ্যাপলের Appstore (অ্যাপস্টোর)-এর মতো মাইক্রোসফটও ‘মার্কেটপ্লেস’ নামে একটি অ্যাপস্টোর বানিয়েছে। ডিভাইসগুলো শুধু মাইক্রোসফট অনুমোদিত অ্যাপ্লিকেশনগুলো চালাতে সক্ষম হবে।

অ্যান্ড্রয়িড



গুগলের অ্যান্ড্রয়িড ইতোমধ্যে হৈচৈ ফেলে দিয়েছে। এর কারণ মোবাইল প্লাটফরমে আধিপত্য বিস্তারকারী অ্যাপলের প্রভাব বলয়ে এটি চিড় ধরাতে সক্ষম হয়েছে। অ্যাপলের আইফোন ও/এস যেখানে ‘আবদ্ধ’ সেখানে অ্যান্ড্রয়িড মুক্ত সোর্সের ধারক। ডেভেলপাররা ইচ্ছেমতো নিজেদের অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করে গুগলের অনুমোদন না নিয়েই বাজারজাত করতে সক্ষম হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, তারা ভোক্তাদের বিনামূল্যে দিয়ে দিচ্ছে। বিগত কয়েক মাসের মধ্যেই এটি পঞ্চম স্থানে চলে এসেছে এবং ক্রমান্বয়ে এগুচ্ছে।

প্রথম- সিম্বিয়ান (নোকিয়া)
দ্বিতীয়- ব্লাকবেরি (রিম)
তৃতীয়- আইফোন (অ্যাপল)
চতুর্থ- উইন্ডোজ মোবাইল (মাইক্রোসফট)

অ্যান্ড্রয়িডকে প্রথম থেকেই স্মার্টফোনের জন্য তৈরি করা হয়েছে যাতে এটি ক্লাউডে সংযোগ সাধন করতে পারে। ক্লাউড কমপিউটিং হচ্ছে গুগল উদ্ভাবিত নতুন প্রযুক্তি যাতে সব অ্যাপ্লিকেশন ‘অনলাইনে’ থাকবে, লোকাল হার্ডডিস্কে থাকবে না। এটি লিনআক্স কার্নেলকে ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এটি ইন্টেলের x৮৬ এবং ARM দু’ধরনের প্লাটফরমে চলবে, তবে দুই আঙ্গিক তথা ফ্লেভারে। অ্যান্ড্রয়িডে নির্মাতারা তাদের নিজস্ব ইউজার ইন্টারফেস ব্যবহার করতে শুরু করেছে। যেমন HTC-এর সেন্স (Sense), মোটোরোলার মোটোব্লার, সনি এরিকসনের মিডিয়াস্কেপ, ডেলের স্টেজ। অ্যান্ড্রয়িডের বর্তমান কার্নেল ভার্সন হচ্ছে ২.১ এবং খুব শিগগিরই ২.২ ভার্সন বাজারে আসবে। নতুন ভার্সনে অ্যাডোবির ফ্ল্যাশ এবং র্যা্মের পরিবর্তে মেমরি কার্ডে অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল করার ক্ষমতা থাকবে।

অ্যান্ড্রয়িড শুধু স্মার্টফোনে নয় বরং অনেক নির্মাতা ই-বুক রিডার, নেটবুক এবং টাচস্ক্রিন ট্যাবলেটে একে ব্যবহার করা শুরু করেছে। তবে স্মার্টফোনে এর ব্যবহার বেশ উল্লেখযোগ্য। ইতোমধ্যে স্যামসাং, HTC (এইচটিসি), মোটোরোলা এবং সনি এরিকসন অ্যান্ড্রয়িডভিত্তিক সেট বাজারে ছেড়েছে। এ ব্যাপারে সবচেয়ে এগিয়ে থাকছে HTC। তারা এক্সচেঞ্জভিত্তিক ই-মেইল পুস করাসহ ফেসবুক/টুইটার ফিড একটি ভিউতে সমন্বিত করতে পেরেছে।

অ্যাপ্লিকেশনের ক্ষেত্রে অ্যাপল যেরকম কঠিন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েছে তার বিপরীতে গুগল উদার মনোভাব গ্রহণ করেছে। গুগল অ্যান্ড্রয়িড অ্যাপ্লিকেশনের জন্য যেমন অ্যাপস্টোর তৈরি করেছে তেমনি ডেভেলপারদেরও সুবিধা দিয়েছে, যাতে তারা নিজেদের ওয়েবসাইট থেকেও তাদের অ্যাপ্লিকেশন দিতে পারে, এমনকি থার্ড-পার্টি চ্যানেল থেকেও তা দিতে পারে। বর্তমানে অ্যান্ড্রয়িডভিত্তিক ৫০ হাজার অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে এবং প্রতি মাসে ৮ হাজার করে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। এক রিপোর্টে জানা গেছে, বর্তমানে প্রাপ্ত অ্যাপ্লিকেশনের ৪৩% মূল্য দিয়ে কিনতে হচ্ছে এবং ৫৭% ফ্রি। গড়পড়তা অ্যাপ্লিকেশনের মূল্য ৩.৫ মার্কিন ডলার। সবচেয়ে বড় কথা এসব অ্যাপ্লিকেশন পাবলিশ করার জন্য গুগলের অনুমোদনের প্রয়োজন নেই।

ব্লাকবেরি

মোবাইল ই-মেইল প্লাটফরমে ব্লাকবেরি গত দশ বছর ধরে প্রাধান্য বিস্তার করে আসছে। মাইক্রোসফট, নোকিয়ার মতো কিছু কোম্পানি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেও তারা ব্লাকবেরিকে হারাতে পারেনি। কিন্তু হালে আইফোনের জনপ্রিয়তা ব্লাকবেরি ও/এস-এর নির্মাতা রিম (RIM) কোম্পানিকে উদ্বুদ্ধ করছে ই-মেইলের পাশাপাশি অন্যান্য ফিচার যোগ করতে।



রিমের ব্লাকবেরি ও/এস একটি প্রোপারেটরি সিস্টেম সফটওয়্যার যা মূলত ই-মেইল সার্ভিস দেয়ার লক্ষ্যে নির্মিত হয়েছে। এতে ই-মেইলকে সার্ভার-মেইলবক্সে প্রেরণ এবং তাৎক্ষণিকভাবে ব্লাকবেরি ডিভাইসে দেয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে ইতোমধ্যে ক্যালেন্ডার, টাস্ক, কন্টাক্ট সংযোজনের পাশাপাশি ওয়েব ব্রাউজিং, ইনস্ট্যান্ট ম্যাসেজিং, মাল্টিমিডিয়া এবং থার্ডপার্টি সফটওয়্যারের সমর্থনের সক্ষমতা দেয়া হয়েছে। ব্লাকবেরি মোবাইল প্লাটফরমে আরো দুটো অনুষঙ্গ রয়েছে। একটি হচ্ছে ব্লাকবেরি এন্টারপ্রাইজ সার্ভার যা তারবিহীনভাবে মাইক্রোসফট এক্সচেঞ্জ, লোটাস, ডোমিনো বা নোভেলের গ্রুপওয়াইজের সাথে সিনক্রোনাইজেশন করতে সক্ষম। এতে করে ওয়েবভিত্তিক ই-মেইলের সিনক্রোনাইজেশনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। অন্য অনুষঙ্গটি হচ্ছে- ই-মেইল এবং ব্রাউজিংয়ের সব ব্লাকবেরি ট্র্যাফিককে একটি গেটওয়ের মাধ্যমে সংকুচিতভাবে দেয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে যাতে করে ডাটা ব্যান্ডউইডথকে কমিয়ে আনা যায়। এ বছরের শেষার্ধে ব্লাকবেরির পরবর্তী ভার্সন ৬ বাজারে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ওয়েব কিটভিত্তিক ব্রাউজার, অন্তর্নিহিত RSS এবং সোস্যাল নেটওয়ার্কিং অ্যাপ্লিকেশন থাকবে।

রিম হচ্ছে একমাত্র কোম্পানি যারা ব্লাকবেরি হ্যান্ডসেট তৈরি করে। এসব হ্যান্ডসেট QWERTY কী-প্যাডসমৃদ্ধ, যেমন GSM Curve (জিএসএম কার্ভ) এবং 3G Bold (থ্রিজি বোল্ড।) এছাড়াও টাচস্ক্রিনভিত্তিক স্টর্ম বাজারে ছেড়েছে সম্প্রতি।

ব্যবহারকারীরা ব্লাকবেরি অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপার, স্বাধীন অনলাইন স্টোর (যেমন e.g. Crackberry) বা রিমের App World (অ্যাপ-ওয়ার্ল্ড) থেকে ডাউনলোড করে নিতে পারেন। অ্যাপলের আইফোন অনুযায়ী ব্লাকবেরি অনুরূপ অ্যাপস্টোর তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে ৬৫০০ অ্যাপ্লিকেশন পাওয়া যাচ্ছে অ্যাপস্টোরে। অ্যাপ্লিকেশনের সর্বনিম্ন মূল্য ধরা হয়েছে ২.৯৯ মার্কিন ডলার যা ক্রেডিটকার্ড, পেপাল ইত্যাদির মাধ্যমে কেনা যেতে পারে।

সিম্বিয়ান



মোবাইল ও/এস-এর আদি পিতা EPOC OS (ইপক ও/এস), যার নতুন সংস্করণ হচ্ছে সিম্বিয়ান। ১৯৮০ সালে জন্ম নিয়ে সিয়ন অর্গানাইজার (Psion)-এর মাধ্যমে এটি বাজারে আসে। ২০০০ সালে এর পরিবর্ধিত সংস্করণ সিম্বিয়ান নামে নামকরণ করা হয়। নোকিয়া ছাড়া স্যামসাং এবং সনি এরিকসনে এটি ব্যবহার হয়ে আসছে। সিম্বিয়ানই হচ্ছে নোকিয়ার স্মার্টফোন সিরিজের মূল ব্যাকবোন বা মেরুদন্ড। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোন মার্কেটের ৩৯ শতাংশ দখল করে আছে এটি।

মনে হচ্ছে, আইফোনপরবর্তী যুগে সিম্বিয়ান যেন তাল মিলিয়ে চলতে সক্ষম হচ্ছে না। সিম্বিয়ানের বর্তমান ভার্সনে যে ‘ইউজার ইন্টারফেস’ সম্পৃক্ত করা হয়েছে তা নিয়ে বেশ সমালোচনার ঝড় বইছে, কারণ এটি বন্ধুসুলভ নয়। অন্যদিকে আইফোন, অ্যান্ড্রয়িড এবং উইন্ডোজ ফোন এ ব্যাপারে প্রশংসার তালিকায় রয়েছে। এদিকে সিম্বিয়ানের দ্রুত উন্নয়নের লক্ষ্যে নোকিয়া একে সিম্বিয়ান ফাউন্ডেশনের কাছে হস্তান্তর করেছে। এরা সিম্বিয়ান ৩ ভার্সন নামে বাজারে ছেড়েছে যা মাল্টিটাচসহ 2-D এবং 3-D গ্রাফিক্সের সক্ষমতা দেয়।

সব নোকিয়া স্মার্টফোনই সিম্বিয়ান ও/এসে চলে। নতুন ভার্সনকে ধারণ করে এ বছরের সেপ্টেম্বরে বাজারে আসার কথা রয়েছে নোকিয়ার N8 সিরিজের স্মার্টফোন। এতে ৩.৫ ইঞ্চি মাল্টিটাচ স্ক্রিনসহ ১৬ গি.বা. বিল্ট-ইন ফ্ল্যাশ মেমরি, ১২ এমপি Carl Zeiss Lens (কার্ল জেইস লেন্স)-এর ক্যামেরা থাকছে। এ ছাড়াও নেভিগেশনের সহায়তাস্বরূপ নোকিয়ার অভি (OVI) ম্যাপ এবং এইচডিএমআই (HDMI)-এর সমর্থন থাকছে। নোকিয়ার অভি স্টোরের এক-তৃতীয়াংশ অ্যাপ্লিকেশন বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে অভি স্টোরে কয়েক হাজার অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে বলে জানা গেছে। পেইড অ্যাপ্লিকেশনের ক্ষেত্রে প্রতিটি অ্যাপ্লিকেশনের গড়পড়তা মূল্য ৩.৫ মার্কিন ডলার পড়বে বলে তথ্যসূত্রে প্রকাশ।

মিগো



অত্যন্ত স্বল্প পরিচিত নোকিয়ার মায়েমো (Maemo) এবং ইন্টেলের মবলিন (Moblin)-এর কথা খুব কমসংখ্যক লোকই জানেন। মোবাইলের জন্য নির্মিত এ অপারেটিং সিস্টেম (ও/এস) লিনআক্সের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। বাজারে অনেক ও/এস দেখে ‘একলা চলো’ নীতি পরিহার করে নোকিয়া এবং ইন্টেল এ ব্যাপারে একীভূত হবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ডেভেলপারদের আকৃষ্ট করাই এর লক্ষ্য। এ ও/এস-কে শুধু মোবাইল ডিভাইসে সীমাবদ্ধ করা তাদের লক্ষ্য নয় বরং স্মার্টফোনের পাশাপাশি ট্যাবলেট, নেটবুক, সেটটপ বক্স (ওয়েব সংযুক্ত টিভির জন্য), ইন-কার সিস্টেম প্রভৃতি ক্ষেত্রে ব্যবহার করার উদ্দেশ্য নিয়ে তারা যাত্রা শুরু করেছে। ইতোমধ্যে নোকিয়া N900 সিরিজের স্মার্টফোনে মিগো ব্যবহার করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। কোরিয়ান এলজি (LG) কোম্পানি GW990 ওয়াইড স্ক্রিন স্মার্টফোন বের করে ফেলেছে এবং ডেল তাদের স্লেট ডিভাইস এবং নেটবুকে মিগো ব্যবহার করবে বলে বাজারে গুজব চালু রয়েছে। মিগো কয়েকটি প্রসেসর স্থাপত্য সমর্থন করছে। এর মধ্যে রয়েছে ইন্টেলের বিশ্বখ্যাত x86 স্থাপত্য। আরো রয়েছে নোকিয়ার ARM (আর্ম) প্রসেসর। ইন্টেল হার্ডওয়্যারে চলার জন্য মিগো অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করবে ইন্টেল আর নোকিয়া ডিভাইসের জন্য সফটওয়্যার সরবরাহ করবে অভি স্টোর।

ওয়েব ও/এস



আইফোন এবং উইন্ডোজ মোবাইলের আবির্ভাবের আগে পাম কোম্পানি তাদের পিডিএতে (PDA) পাম ও/এস ব্যবহার করেছিল। বর্তমানে পাম কোম্পানি সম্পূর্ণ নতুনভাবে ওয়েব ও/এস তৈরি করেছে, যা মাল্টিটাচসমৃদ্ধ স্মার্টফোনের উপযোগী। ইতোমধ্যে এইচপি কোম্পানি পাম কোম্পানিকে ১.২ বিলিয়ন ডলার মূল্যে কিনে নিয়েছে। ফলে ওয়েব ও/এস এখন এইচপির সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে। মূলত পামকে কেনার মূল কারণই ছিল ওয়েব ও/এস-কে হস্তগত করা। এইচপি মনেপ্রাণে চাচ্ছিল তারা যেন নিজস্ব একটি ও/এসের মালিক হয় যা তারা উইন্ডোজকে পরিহার করে তাদের স্মার্টফোন, ট্যাবলেট এবং নেটবুকে স্বাচ্ছন্দ্যভাবে ব্যবহার করতে পারে। এইচপি ইতোমধ্যে স্লেটে ট্যাবলেটের জন্য ওয়েব ও/এস দিয়ে ডিজাইন শুরু করে দিয়েছে বলে জানা গেছে। ক্ষুদ্রাকার, ক্লাউডকেন্দ্রিক এই ও/এস টাচস্ক্রিন ট্যাবলেট, নেটবুক এমনকি ডিজিটাল ফটোফ্রেমের মতো ক্ষুদ্র যন্ত্রের জন্য বেশ উপযোগী; ফলে এইচপি ভোক্তা-সামগ্রীর জন্য এটিকে বেছে নিয়েছে। অবশ্য ব্যবসায় সাম্রাজ্যে বা উৎপাদনশীল পিসি প্লাটফরমে তথা ল্যাপটপ ডেস্কটপে উইন্ডোজের ব্যবহার যথারীতি থাকছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, উইন্ডোজ ব্যতিরেকে অন্যান্য ও/এসের ন্যায় ওয়েব ও/এসও লিনআক্সভিত্তিক। কার্নেলের উপরি কাঠামো এবং ইউজার ইন্টারফেস সবই ‘আবদ্ধ’ থাকছে। এই ও/এসে যথারীতি টাচস্ক্রিনসহ অন্যান্য সুবিধা থাকবে। তবে এর চমৎকার ফিচার হচ্ছে- যথার্থ মাল্টি টাস্কিংয়ের সমর্থন।

বাডা



কোরিয়ান কোম্পানি স্যামসাং বাডা (অর্থাৎ সমুদ্র) নামে একটি মোবাইল ও/এস চালু করতে যাচ্ছে সম্প্রতি। এটিও লিনআক্স কার্নেলকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হচ্ছে- তবে ইউজার ইন্টারফেস হিসেবে থাকছে টাচ উইজ (Touch Wiz) নামের একটি প্রযুক্তি, যা উইন্ডোজ মোবাইলভিত্তিক স্মার্টফোনে তারা ব্যবহার করে আসছে। এতে যথারীতি মাল্টিটাচসহ 3-D গ্রাফিক্স থাকবে। শুধু তাই নয়, ওয়েব ও/এসের মতো এতে ওয়েব কিট ইঞ্জিনসমৃদ্ধ ওয়েব ব্রাউজার থাকবে, যা অ্যাডোবি ফ্ল্যাশ সমর্থন করবে।



স্যামসাং তাদের ওয়েব (Wave 58500) স্মার্টফোনে বাডাকে সন্নিবেশিত করবে। এর পাশাপাশি বাডা অ্যাপস্টোর তৈরি করা হবে যাতে মূলত গেমের প্রাধান্য থাকবে; কারণ ইতোমধ্যে কোম্পানি বিশ্বখ্যাত ইএ (EA) এবং কেপ কম (Cap Com)-এর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে যাতে তারা বাডা টাইটেল নির্মাণ করে। এ টাইটেলগুলো শুধু বাডা স্টোরের মাধ্যমে পাওয়া যাবে এবং ওয়েবের মতো বাডা ডিভাইসের জন্যও প্রযোজ্য হবে। স্যামসাং আইপ্যাডের মতো ট্যাবলেট পিসি বাডা ও/এস দিয়ে নির্মাণ করবে বলে নিশ্চয়তা দিয়েছে। বাডা শুধু ট্যাবলেটে নয়, ফ্ল্যাটস্ক্রিন টিভিতে IP TV (আইপি টিভি) স্ট্রিমিং এবং অন-স্ক্রিন ওয়েব ব্রাউজিংয়ের জন্যও ব্যবহার হবে- এতে কোনো সন্দেহ নেই।

উপসংহার

বাজারে এত মোবাইল ও/এস দেখে ভয় পাবার কিছু নেই, কারণ ভোক্তাদের স্মার্টফোন, ট্যাবলেট বা ক্ষুদ্রযন্ত্র ব্যবহারের সময় ও/এস নিয়ে মাথা ঘামাতে হবে না। ভোক্তারা এক সেট থেকে অন্য কোম্পানির আরেক সেট নিয়ে কাজ করার সময় অনুভব করবেন না যে তারা ভিন্ন ও/এস ব্যবহার করছেন, কারণ এ ধরনের ডিভাইস ব্যবহারের জন্য ও/এসের কারিগরি দিক জানা জরুরি নয়। সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য বন্ধুসুলভভাবে এ ডিভাইসগুলো তৈরি হয়ে থাকে। ফিচারের মধ্যেও কমবেশি তেমন পার্থক্য থাকে না। উপরের নিবন্ধে দেখা যাচ্ছে প্রতিটি ও/এস কমবেশি প্রায় একই ফিচার বা সুবিধা দিয়ে থাকে। অন্যদিকে পিসি বা সার্ভারের ব্যাপ্তি বিশাল হবার কারণে বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের প্রয়োজন হয়।

আরেকটি ব্যাপার হলো- উইন্ডোজ ছাড়া প্রায় সব ও/এস লিনআক্স কার্নেলকে ব্যবহার করছে। ফলে, দেখা যাচ্ছে বিনামূল্যে ও সহজে লিনআক্স প্রাপ্তির ফলে এত মোবাইল ও/এস পাওয়া সম্ভব হয়েছে বলা যায় অর্থাৎ লিনআক্স মোবাইল ও/এসের জনক হিসেবে বাজারে ইতোমধ্যে স্থান করে নিয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে লিনআক্স তার বিশাল সাম্রাজ্য স্থাপন করতে যাচ্ছে বিশ্বব্যাপী- একথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, বিশেষত ক্ষুদ্র ডিভাইসের ক্ষেত্রে।


কজ ওয়েব

ফিডব্যাক : eislam000@yahoo.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস