Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > লেখা > আইডিসি ও গার্টনারের বিশ্লেষণে ২০১৪ সালের আইটিবিশ্ব
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: গোলাপ মুনীর
মোট লেখা:১৭৫
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১৪ - জানুয়ারী
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
ফিচার
তথ্যসূত্র:
প্রচ্ছদ প্রতিবেদন
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
রেটিং: ০ মন্তব্য:০
আইডিসি ও গার্টনারের বিশ্লেষণে ২০১৪ সালের আইটিবিশ্ব
আইডিসি। পুরো কথায় ইন্টারন্যাশনাল ডাটা কর্পোরেশন।

এটি তথ্যপ্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ ও ভোক্তা প্রযুক্তিবাজারের ক্ষেত্রে বিশ্বের প্রথমসারির বাজার তথ্যদাতা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। আইডিসি সহায়তা দেয় আইটি প্রফেশনাল, বিজনেস এক্সিকিউটিভ ও ইনভেস্টমেন্ট কমিউনিটিকে- যাতে করে এরা এদের প্রযুক্তি কেনা ও ব্যবসায়িক কৌশল সম্পর্কিত বিষয়ে সঠিক তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এক হাজারেরও বেশি আইডিসি বিশ্লেষক জোগান দেন বিশ্বের ১১০টিরও বেশি দেশের প্রযুক্তি ও শিল্পসংশ্লিষ্ট সুযোগ-সুবিধার বৈশ্বিক, আঞ্চলিক ও স্থানীয় তথ্য এবং প্রবণতাসম্পর্কিত বিশেষজ্ঞ তথ্য। ৪৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে আইডিসি প্রযুক্তিসম্পর্কিত কৌশলগত গভীর তথ্যের জোগান দিয়ে এর গ্রাহকদের সহায়তা করছে ব্যবসায়িক মুখ্য লক্ষ্য অর্জনের জন্য।

আইডিসি হচ্ছে আইডিজি তথা ইন্টারন্যাশনাল ডাটা গ্রম্নপের পুরোপুরি মালিকানাধীন একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। আইডিজি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় একটি টেকনোলজি মিডিয়া, রিসার্চ ও ইভেন্ট কোম্পানি। আইডিজি’র মিডিয়া ব্র্যান্ডগুলো হলো : সিআইও, সিএসও, কমপিউটারওয়ার্ল্ড, গেমপ্রো, ইনফোওয়ার্ল্ড, ম্যাকওয়ার্ল্ড, নেটওয়ার্কওয়ার্ল্ড, পিসিওয়ার্ল্ড ও টেকওয়ার্ল্ড। এসব মিডিয়া বিশ্বের ৯৭টি দেশের ২৮ কোটি টেকনোলজি বায়ারের কাছে পৌঁছে। আইডিজি নেটওয়ার্ক বিশ্বব্যাপী ৪৬০ ওয়েবসাইট ও ২০০ প্রিন্ট টাইটেলসমৃদ্ধ, যেগুলোর বিষয় বিজনেস টেকনোলজি, কনজ্যুমার টেকনোলজি, ডিজিটাল এন্টারটেইনমেন্ট ও ভিডিও গেম পর্যন্ত বিস্তৃত।

আইডিসি ছাড়া আমরা বিশ্বের আরেকটি শীর্ষস্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তি গবেষণা ও পরামর্শক কোম্পানির নাম জানি, সেটি হচ্ছে গার্টনার। গার্টনার আমাদেরকে দেয় প্রযুক্তিসম্পর্কিত ভেতরের তথ্য, যার ওপর নির্ভর করে গার্টনার গ্রাহকেরা তাদের প্রতিদিনের সঠিক সিধান্ত নিতে পারেন। সরকারি সংস্থা ও কর্পোরেশনের সিআইও এবং আইটি প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে হাইটেক ও টেলিকম এন্টারপ্রাইজ, প্রফেশনাল সার্ভিস ফার্ম এবং টেকনোলজি ইনভেস্টর পর্যমত্ম ১৩ হাজার স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানের কাছে গার্টনার এক মূল্যবান পার্টনার। গার্টনার রিসার্চ, গার্টনার এক্সিকিউটিভ প্রোগ্রামস, গার্টনার কনসালটিং ও গার্টনার ইভেন্টসের মাধ্যমে গার্টনার এর প্রতিটি গ্রাহকের সাথে কাজ করে আইটিসম্পর্কিত গবেষণা ও ব্যাখ্যা- বিশ্লেষণ তৈরি করে। ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত গার্টনারের সদর দফতর যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের স্ট্যামফোর্ডে। এর রয়েছে ৫ হাজার ৮০০ সহযোগী, যার মধ্যে আছে ১ হাজার ৪৫০ অ্যানালিস্ট ও কনসালট্যান্ট। ৮৫টি দেশে আছে এর গ্রাহক।

সময়ের রথে চড়ে আমরা পা রেখেছি নতুন বছর ২০১৪ সালে। বরাবরের মতো আইডিসি ও গার্টনার নতুন বছরকে সামনে রেখে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্বের নানা অন্তর্নিহিত তথ্য ও এর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেছে। মূলত আইডিসি আর গার্টনারের পাশাপাশি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সূত্রে পাওয়া তথ্য ও ব্যাখ্যা- বিশ্লেষনের ওপর ভিত্তি করে ২০১৪ সালের তথ্যপ্রযুক্তি জগতের একটি সার্বিক চিত্র তুলে ধরার প্রয়াস পাব এই প্রচ্ছদ প্রতিবেদনে।

আইডিসি’র বিশ্লেষনে ২০১৪

আইডিসি বলেছে, ২০১৪ সালে বিশ্বব্যাপী আইটি খাতে ব্যয় ত্বরান্বিত হবে। ২০১৩ সালের অর্থনৈতিক সঙ্কটের পর আইটি খাতে যে মন্দা বা ধীরগতি নেমে এসেছিল, তা কাটিয়ে উঠে নতুন বছরে আইটি খাতে এ ত্বরণ সৃষ্টি হবে বলে আইডিসি গবেষণায় জানা গেছে। ২০১৪ সালে এই প্রবৃদ্ধি প্রধানত ঘটবে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে। আইডিসি’র গবেষণা মতে, নতুন বছরে বিশ্বব্যাপী আইটি স্পেন্ডিং তথা আইটি ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি ঘটবে ৫ শতাংশ হারে। আর এই প্রবৃদ্ধির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ দশমিক ১৪ ট্রিলিয়ন ডলার। উলেস্নখ্য, ১ ট্রিলিয়ন হচ্ছে ১ লাখ কোটি। ২০১৩ সালে এই গেস্নাবাল টেক স্পেন্ডিং বা ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি হার ছিল ৪ শতাংশ এবং মোট প্রবদ্ধির পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ০৪ শতাংশ। এর আগের বছর ২০১২ সালে এই প্রবৃদ্ধি হার ছিল ৫ শতাংশ। আইডিসি’র রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, ২০১২ সালের তুলনায় ২০১৩ সালে প্রবৃদ্ধি কমে গিয়েছিল প্রধানত চীন ও রাশিয়াসহ বিকাশমান বাজারগুলোতে আইটি খাতে ব্যয়ে ধীরগতি নেমে আসার কারণে। ২০১২ সাল থেকেই অনেক অঞ্চলে এন্টারপ্রাইজ আইটি খাতে ব্যয় ছিল সামান্য উত্তপ্ত। সে বছরের অর্ধেকটা সময় স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট পিসি শিপমেন্ট জোরালো হওয়ায় শিল্পপ্রবৃদ্ধি ব্যাপারে আগে যতটা প্রত্যাশা করা হয়েছিল, সে তুলনায় বাসত্মবে পিসি, সার্ভার স্টোরেজ শিল্পে ব্যয় ছিল দুর্বল পর্যায়ের।

আইডিসি’র হিসাব মতে, ২০১৩ সালে মোবাইল ফোন ছাড়া আইটি খাতে ব্যয় স্থির মুদ্রায় বেড়েছে মাত্র ২ দশমিক ৬ শতাংশ। আর ইউএস ডলারে ইয়ার-টু-ইয়ার মুদ্রা বিনিময় হার বিবেচনায় বেড়েছে মাত্র ০ দশমিক ৭ শতাংশ। আইডিসি’র গেস্নাবাল টেকনোলজি অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি রিসার্চ অর্গানাইজেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট স্টিফেন মিন্টন বলেছেন, ‘২০১৩ সালটা অনেক আইটি ভেন্ডরের কাছে ছিল একটি কঠিন বছর। বছরটির প্রথমার্ধে অবকাঠামো খাতে ব্যয় ছিল প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম। গোটা আইটি শিল্পটিকে ঠেকানো গেছে মোবাইল ডিভাইসে, বিশেষ করে স্মার্টফোনের অব্যাহত জোরালো অবস্থান ধরে রাখার কারণে। কিন্তু বিকাশমান বাজারগুলোতে নিমণগতি ছিল অবকাঠামো খাতের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জন্য আরেকটি প্রতিকূল পরিস্থিতি। এর সাথে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অর্থ অনাদায়ী থাকা এবং ইউরোপের অর্থনৈতিক মন্দা তো ছিলই।

আইডিসি’র রিপোর্ট মতে, ২০১৩ সালের তৃতীয় চতুর্তক বা কোয়ার্টারে বাণিজ্যিক পিসি শিপমেন্ট মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল। এতে করে আইডিসি মনে করছে, আগামী এক-দেড় বছর ব্যাপকভিত্তিক মূলধন ব্যয় ঘটতে পারে। তা সত্ত্বেও ২০১৩ সালে সার্ভার, স্টোরেজ ও এন্টারপ্রাইজ খাতে ব্যয় বাড়ার পরিমাণ সীমিত থাকতে পারে মাত্র ১ শতাংশে। ২০১৪ সালে যা পৌঁছতে পারে ৪ শতাংশে। স্টোরেজ ও সার্ভারের বাজার যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৪ সালে বাড়বে, যদিও আইডিসি’র রিপোর্টে সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলা হয়, গত বছরের তৃতীয় কোয়ার্টারে দাম কমানোর প্রেক্ষাপটে ট্যাবলেট বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় পিসির বাজার অনেকটা খেয়ে ফেলে ট্যাবলেট পিসি। আগে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল ২০১৩ সালে পিসি বাজার ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমে যাবে, কিন্তু বাস্তবে তা কমেছে ৭ দশমিক ৭ শতাংশ। শুধু যুক্তরাষ্ট্রে গত বছর দ্বিতীয় চতুর্তকে পিসি বিক্রি প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা সবল ছিল, তবে যুক্তরাষ্ট্র তা সার্বিক আইটি শিপমেন্ট ও বিক্রির নিমণগতি ঠেকাতে পারেনি।

স্টিফেন মিন্টন বলেছেন, ‘২০১৩ সালের শুরম্ন থেকেই উন্নত দেশগুলোতে অর্থনৈতিক গতিশীলতা ছিল মোটামুটি ইতিবাচক। ইউরোপের অর্থনীতি ক্রমেই ঘুরে দাঁড়ানোর ফলে ব্যবসায়িক আস্থা ক্রমেই ফিরে আসছে। এর ফলে আইডিসি’র অনুমানকেই জোরালো করে তুলছে। আইডিসি’র অনুমান, ২০১৪ সালটি আগের বছরের তুলনায় বেশিরভাগ ভেন্ডরের জন্য ভালো যাবে। কিন্তু ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে উন্নত দেশগুলোর ইতিবাচক খবর আসতে থাকলেও বিকাশমান বাজারগুলোতে শিল্পপ্রবৃদ্ধি থেকে যায় দুর্বল।’

আইডিসি পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০১৪ সালে চীনে সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও ব্যবসায়িক আস্থা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষোপতে আইটি প্রতিষ্ঠানের প্রত্যাশা অনুযায়ী আইটির চাহিদা বেড়ে যাবে। ২০১৩ সালে সার্বিক আইটি ব্যয় বেড়েছে ৮ শতাংশ হারে। চীনে এই প্রবৃদ্ধি ২০০৮ সালের পরবর্তী সময়ের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল। তবে আইডিসি’র ঘোষণা, ২০১৪ সালে চীনে এই প্রবৃদ্ধির মাত্রা দাঁড়াবে ১৪ শতাংশের মতো। পিসি, সার্ভার, স্টোরেজ, সফটওয়্যার ও আইটি সার্ভিস বিক্রি জোরালো করে তোলার মাধ্যমে এই প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।

আইডিসি এর পূর্বাভাসে ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আইটি সার্ভিসের প্রবৃদ্ধি হার ৩ দশমিক ৭ থেকে নামিয়ে এনেছিল ২ দশমিক ৯ শতাংশে। এখন মনে করা হচ্ছে, বিশ্বব্যাপী আইটি সার্ভিস খাতের প্রবৃদ্ধি ঘটেছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হারে। এর আগে বলা হয়েছিল, স্থির মুদ্রায় এ প্রবৃদ্ধি হার হবে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রে সফটওয়্যার স্পেন্ডিং (সফটওয়্যার অ্যাজ এ সার্ভিসসহ) সার্বিক বিবেচনায় এখন পর্যন্ত তুলনামূলকভাবে রয়ে গেছে স্থিতিস্থাপক, স্থির মুদ্রায় এর প্রবৃদ্ধি হার ৫ দশমিক ৫ শতাংশ, যা ছিল প্রত্যাশিত। ২০১৩ সালের শেষ দিকে এসে বার্ষিক সফটওয়্যারের স্পেন্ডিংয়ের ১০ শতাংশ চলে গেছে ক্লাউডে।

জাপান সম্পর্কে আইডিসি বলেছে, সরকারের মূল্য কমানো ঠেকানোর নীতি (ডিফ্লেশন-বাস্টিং পলিসি) অবলম্বনের ফলে জাপানি শেয়ারবাজারে আস্থা ফিরে এলেও আইটি স্পেন্ডিংয়ে ঊর্ধ্বগতি এখনও ফিরিয়ে আনা যায়নি। আইডিসি এখন বলছে, ২০১৩ সালে জাপানে আইটি স্পেন্ডিংয়ে প্রবৃদ্ধি হার দাঁড়াবে মাত্র ১ শতাংশ। অথচ সুনামিউত্তর ২০১২
সালেও এই হার ছিল ৫ শতাংশ।

১৬১০ কোটি ডলারের বিগ ডাটা বাজার

আইডিসি ও আইআইএ (ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যানালাইসিস) পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০১৪ সালে বিগ ডাটা বাজারের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৬১০ কোটি ডলার। ডিসেম্বরের প্রথম দিকে আইডিসি ও আইআইএ আলাদাভাবে ওয়েবকাস্টের মাধ্যমে তাদের এই পূর্বাভাসের কথা জানায়। আইডিসি’র পূর্বাভাস মতে, ২০১৪ সালে বিগ ডাটার বাজার ১৬১০ কোটি ডলারে পৌঁছবে। বিগ ডাটার এই বাজার সম্প্রসারণ ঘটবে সার্বিক আইটি মার্কেটের তুলনায় ৬ গুণ। আইডিসি এই পরিসংখ্যান কাঠামো তথা ফিগার ইনফ্রাস্ট্রাকচারে অন্তর্ভুক্ত করেছে সার্ভার, স্টোরেজ ইত্যাদিতে, যা মোট আইটি বাজারের ৪৫ শতাংশ এবং বাজারের সবচেয়ে অবদায়ক অংশ। আইটি বাজারে সার্ভিস খাতের অবদান ২৯ শতাংশ ও সফটওয়্যার খাতের অবদান ২৪ শতাংশ। আইডিসি’র মন্তব্য হচ্ছে, বিগ ডাটার অবদান আজ সব সময় স্পষ্ট নয়। অবশ্য শীর্ষস্থানীয় বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগ সেবা কোম্পানি BNY Mellen সম্প্রতি এর ৫০ হাজার চাকুরে বা এমপ্লয়ির কাছ জানতে চেয়েছে : ‘হাউ টু হারনেস দ্য পাওয়ার অব বিগ ডাটা’। অর্থাৎ জানতে চাওয়া হয়েছে : কী করে বিগ ডাটার ক্ষমতা প্রতিদিনের নিত্যকর্মে সমন্বয় করা যায়? আইআইএ’র পূর্বাভাস হচ্ছে, কোম্পানিগুলো ২০১৪ সালে চাইবে দেখানোর মতো মূল্য নিশ্চিত করতে এবং তাদের নজর থাকবে প্রসেস উন্নয়নের জন্য বিজনেস প্রসেসে বিগ ডাটা অ্যানালাইটিক এমবেডিং করার ওপর।

মেধাবী অ্যানালাইটিক ও ডাটা সায়েন্টিস্টের ঘাটতির বিষয়টি বহুল আলোচিত। এ বিষয়টি বিবেচনা করে আইআইএ তিনটি আলাদা ও সংশ্লিষ্ট পূর্বাভাস বা প্রিডিকশন দেয়। এর একটি হচ্ছে- সার্ভিস হিসেবে অ্যানালাইটিককে গ্রহণ করে নেয়াই ত্বরান্বিত করবে দ্রুত ক্যুইক ডাটা টেস্টিং অথবা বিদ্যমান প্রোগ্রাম স্কেলিং আপের জন্য ‘রেডিমেড অ্যানালাইটিকস ইন দ্য ক্লাউড’ অফারিংকে একটি আকর্ষণীয় বিকল্প করে তোলার ব্যাপারে। একইভাবে বিশ্বের প্রথমসারির অন্যতম কনসালটিং, টেকনোলজি ও আউটসোর্সিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান Capgemini পূর্বাভাস দিয়েছে, মেশিন টু মেশিন ডাটার উত্থানের ফলে ক্ষুদ্র I ক্ষিপ্রপ্রগতির অ্যানালাইটিক ক্লাউডকে করে তুলছে অদম্য সমাধান (smaller, nimble analytics making cloud the de facto solution)। আইডিসি বলেছে, ভবিষ্যতে ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচার হবে বিগ ডাটার সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল উপাংশ বা সাব-সেগমেন্ট।

২০১৩-১৭ সময়ে তা বাড়বে ৫০ শতাংশ।

আইআইএ’র আরেকটি প্রিডিকশন হচ্ছে- মেধাবীদের অভাবের কারণে কোম্পানিগুলো ক্রমবর্ধমান হারে মনোযোগী হবে দেশের বাইরের বিজনেস ইউনিট বা সেন্টার অব এক্সেলেন্সগুলোতে কর্মরত অ্যানালিস্ট ও ডাটা সায়েন্টিস্টদের নিয়ে টিম গড়ে তোলার ব্যাপারে। মূল নজর থাকবে সর্বোত্তম অনুশীলন ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে এসব টিমকে অধিকতর কার্যকর করে তোলা। মেধাবীদের ঘাটতি মেটানোর সম্ভাবনা সম্পর্কে আইআইএ’র মন্তব্য হচ্ছে- এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০০টির মতো ভালো প্রোগ্রাম রয়েছে, যেখানে জোর দেয়া হয়েছে অ্যানালাইটিক ও ডাটা সায়েন্সের ওপর। আইডিসি’র পক্ষ থেকে নবপ্রতিষ্ঠিত ডাটা সায়েন্স প্রোগ্রামের কথা উলেস্নখ করে এই বলে সতর্ক করা হয়েছে, এসব প্রোগ্রাম কাজে আসবে শুধু চার-পাঁচ বছর (will bear fruit only in four to five years)। আইআইএ’র সাথে আইডিসি একমত যে, বিগ ডাটা সার্ভিস জোগানদাতা কোম্পানিগুলো এরই মধ্যে শূন্যতা পূরণ করবে। আইডিসি বলছে, ২০১৪ সালে বিগ ডাটা প্রফেশনাল সার্ভিস মার্কেট ৪৫০ কোটি ডলার অঙ্ক ছাড়িয়ে যাবে। এ ধরনের সেবাদাতা ভেন্ডরদের সংখ্যা আগামী তিন বছরে তিনগুণে গিয়ে পৌঁছবে। আর এসব ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান যখন আগ্রাসীভাবে বিগ ডাটা ট্যালেন্টদের টানবে, তখন ট্যালেন্টের অভাব আরও প্রকট হবে। আইডিসি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের কথা উলেস্নখ করে বলেছে, নতুন বিগ ডাটা সামাল দেয়ার মতো আইটি প্রফেশনাল পাওয়া তখন কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। গত বছরের প্রথম দিকে আইডিসি ও কমপিউটার ওয়ার্ল্ড পরিচালিত জরিপে অংশ নেয়াদের মধ্যে ৩৩ শতাংশই বলেছে, সামনের দিনে বিগ ডাটা অ্যানালাইটিকের অভাব দেখা দেবে। আর ৪৫ শতাংশের মতে, অভাব দেখা দেবে অ্যানালাইটিক দক্ষসম্পন্ন পেশাজীবীর। আইডিসি এও বলেছে, ভ্যালু অ্যাডেড কনটেন্ট প্রোভাইডারদের সমন্বয়ে বাজারের সেবা অংশের সম্প্রসারণ ঘটবে। থম্পসন, লেক্সিসনেক্সিস ও এক্সপেরিয়নের মতো ট্র্যাডিশনাল ভেন্ডর; ডাটাসফট, জিনিপ ও লিঙ্কডইনের মতো নতুন ওয়েব ভেন্ডর; একজিওম, ইকুইফেক্স ও টারসাসের মতো কোম্পানি ও পার্সোনাল ইনফরমেশন ভেন্ডর এবং ইয়াহু, গুগল ও সেলসফোর্স/ডাটাডটকমের মতো সার্চ ইঞ্জিন/অ্যাগ্রিগেটর এই ভ্যালু অ্যাডেড কনটেন্ট প্রোভাইডরদের মধ্যে অন্তরভুক্ত হবে। আইডিসি মনে করে, এই মার্কেট সেগমেন্ট চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বিজনেস মডেলের স্পষ্টতা ও মানের অভাবে। আইডিসি’র সংশ্লিষ্ট আরেকটি প্রিডিকশন হলো- ভিসি ইনভেস্টমেন্ট স্থানান্তর হবে সর্বোচ্চ লেয়ায়ের বিগ ডাটা সফটওয়্যারে। আর ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট থেকে স্থানান্তর ঘটবে ‘অ্যানালাইটিক অ্যান্ড ডিসকোভারি’ ও ‘অ্যাপ্লিকেশন’ লেয়ারে। নতুন ধরনের অ্যাপ্লিকেশন, যেমন পার্সোন্যালাইজড মেডিসিনের বিকাশ ঘটবে। আইআইএ দেখছে বিগ ডাটা অ্যাপ্লিকেশনের আরও নতুন নতুন দিগন্ত। আইআইএ’র মতে, বিভিন্ন শিল্পের কোম্পানিগুলো নতুন পণ্য ও সেবা তৈরির জন্য তাদের পুঞ্জীভূত ডাটায় ক্রমবর্ধমান হারে অ্যানালাইটিক ব্যবহার করবে।

আইডিসি মনে করে, সিকিউরিটি ইনফ্রাস্ট্রাকচার ক্রমবর্ধমান হারে বিগ ডাটায় দখল বসানোর কারণে ‘সিকিউরিটি’ অ্যাপ্লিকেশন হবে বিগ ডাটার পরবর্তী বিগ ফ্রন্ট। গার্টনার অবশ্য ভিন্নমত প্রকাশ করে বলেছে, সিকিউরিটি কনটেক্সটে বিগ ডাটা টেকনোলজি থেকে যাবে অপরিপক্ব, ব্যযবহুল ও অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য এর ব্যবস্থাপনা মুশকিল হয়ে দাঁড়াবে। আইআইএ উল্লেখ করেছে, ফ্যাসিয়্যাল রিকগনিশন ও ওয়্যারেবল ডিভাইসগুলো ইনকর্পোরেট করা হবে প্রিডিকটিভ অ্যানালাইটিকে। আর আইডিসি বলেছে, বিগ ডাটা মার্কেটকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে সেন্সর, মোবাইল, ওয়্যারেবল ও এমবেডেড ডিভাইসের (ইন্টারনেট অব থিংস) সংখ্যা বেড়ে যাওয়া ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

প্রযুক্তিবিশ্বে ২০১৪ সালের সেরা দশ প্রবণতা

আইডিসি’র রিপোর্টে ২০১৪ সালের আইটিবিশ্বে দশটি সেরা প্রবণতার কথা উল্লেখ রয়েছে। আইডিসি’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ অ্যানালিস্ট ফ্র্যাঙ্ক জেনসওয়েবিনার (ওয়েবভিত্তিক সেমিনার) পোস্ট করে এসব প্রবণতার কথা প্রকাশ করেছেন। নিচে তা অবলম্বনে এসব প্রবণতার একটি সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো।

এক. বিকাশমান বাজারগুলো ২০১৪ সালে ফিরে যাবে দুই অঙ্কের ১০ শতাংশ হারের প্রবৃদ্ধিতে। এ বাজারগুলো দখল করবে বিশ্ব আইটি বাজারের প্রায় ৩৫ শতাংশ বা ৭৪ হাজার কোটি বিলিয়নের বাজার, যার পরিমাণ বিশ্বে আইটি খাতের ব্যয়ের প্রবৃদ্ধির ৬০ শতাংশ। আইডিসি আরও বলেছে, ২০১৪ সালে বিকাশমান বাজারগুলোতে স্মার্ট কানেকটেড ডিভাইস শিপমেন্ট সংখ্যা উন্নত দেশগুলোর তুলনায় দ্বিগুণে গিয়ে পৌঁছবে। অধিকন্তু আগামী সাত বছর বিকাশমান বাজারে ক্লাউড ব্যয় বাড়বে সাতগুণ, কিন্তু উন্নত দেশগুলোতে তা হবে তিনগুণ। আইডিসি’র মতে, পশ্চিম ইউরোপে আইটি ব্যয় সামান্য বাড়লেও কমবে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানে।


দুই. ২০১৪ সালে বছরওয়ারী বিশ্বব্যাপী আইটি ব্যয় ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়াবে ২.১ ট্রিলিয়ন ডলার। থার্ড প্লাটফর্ম টেকনোলজি (মোবাইল কমপিউটিং, ক্লাউড সার্ভিস, সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং ও বিগ ডাটা অ্যানালাইসিস টেকনোলজি) ব্যয়কে এগিয়ে নেবে, বছর বছর বাড়বে ১৫ শতাংশ হারে ও তা আইটি খাতের প্রবৃদ্ধিতে ৮৯ শতাংশ অবদান রাখবে। প্রবদ্ধিতে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা রাখবে স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট, মোট আইটি প্রবৃদ্ধিতে যার অবদানের মাত্রা ৬০ শতাংশ হবে। মোবাইল ডিভাইস বাদ দিলে আইটি প্রবৃদ্ধি হবে মাত্র ২.৪ শতাংশ। সংযুক্ত ছকে থার্ড প্লাটফর্মে টেকনোলজির ব্যাখ্যা বিশেস্নষণ করে বাজার প্রবৃদ্ধিতে এর অবদান দেখানো হয়েছে।

তিন. থার্ড প্লাটফর্মের ভেতরেই ভ্যালু প্রচুর পরিমাণে মাইগ্রেট বা স্থানামত্মর করতে শুরম্ন করবে ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যাজ অ্যা সার্ভিস (IaaS) থেকে প্লাটফর্ম অ্যাজ অ্যা সার্ভিস (PaaS)-এ এবং জেনেরিক PaaS থেকে ডাটা অপটিমাইজড PaaS-এ। শেষোলিখিত পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হবে যখন আমাজান ওয়েব সার্ভিস ডেভেলপার ও বড় মাপের ভ্যালু সার্ভিসের ব্যবসায়ের জন্য একটি PaaS-এর তোড়ের সাথে সম্প্রসারিত হবে। এর ফলে বর্তমানে যেসব আইটি সাপস্নায়ার কোম্পানি সেকেন্ড প্লাটফর্ম যুগে বাজারে নেতৃত্ব দিচ্ছে, সেসব কোম্পানি বাধ্য হবে জরুরি ভিত্তিতে থার্ড প্লাটফর্ম মার্কেটপ্লেসে অবস্থান ধরে রাখার লড়াইয়ের জন্য নিজেদের রিকনফিগার করতে।

চার. মোবাইল ডিভাইসের ওপর প্রচ- আক্রমণ বা অনস্লট ২০১৪ সালেও অব্যাহত থাকবে। এ বছরটিতে ট্যাবলেটের ও স্মার্টফোনের বিক্রি যথাক্রমে বাড়বে ১৮ শতাংশ ও ১২ শতাংশ হারে। স্যামসাং নেতৃত্বাধীন অ্যান্ড্রয়িড কমিউনিটি অ্যাপলের ওপর এর ভলিউম অ্যাডভান্টেজ বজায় রাখবে, তবে অ্যাপল গড় বিক্রি বাড়ানো অব্যাহত রাখতে সÿ ম হবে। এ পূর্বাভাসের সমর্থনে নিচের গ্রাফ চিত্রটি উপস্থাপন করা হয়েছে।

পাঁচ. ক্লাউড সার্ভিস ও এসব সার্ভিসসংশিস্নষ্ট টেকনোলজিসহ ক্লাউড স্পেন্ডিং ২০১৪ সালে ২৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়াবে ১০ হাজার কোটি ডলারে। আইডিসি’র ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এ ১০ হাজার কোটি ডলারে রয়েছে সফটওয়্যার, সার্ভিস ও ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচার। আইডিসি এও আশা করে, ক্লাউড পেস্নয়ারদের বিশ্বমাত্রা অর্জনের প্রতিযোগিতার ফলে ডাটা সেন্টারের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়ে যাবে। এর সাথে সাথে সমান হারে বাড়বে নানা ধরনের ওয়ার্কলোড-স্পেশালাইজড ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সার্ভিস, যার ফলে ক্লাউড সার্ভিস প্রোভাইডারদের মধ্যে দেখা দেবে নতুন নতুন বিভিন্নতা। চুরান্ত পর্যায়ে ডেভেলপারদের জন্য যোগ হবে একটি পরিকল্পিত লড়াই। আর তা সৃষ্টি করতে পারে ক্লাউডভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন ও সলিউশন, যা বাড়িয়ে দেবে বাজার প্রবৃদ্ধি। আইডিসি পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০১৭ সালের মধ্যে ৮০ শতাংশেরও বেশি নতুন ক্লাউড অ্যাপ্লিকেশন কাস্ট করা হবে ছয়টি PaaS প্লাটফর্মে।

ছয়. ২০১৪ সালে বিগ ডাটা টেকনোলজি ও সার্ভিসে ব্যয় বাড়বে ৩০ শতাংশ। আর বিগ ডাটার চাহিদা ছাড়িয়ে যাবে ১৪০০ কোটি ডলারের অঙ্ক। কারণ, বিগ ডাটা অ্যানালাইটিক স্কিলের চাহিদা সরবরাহকে অতিক্রম করে যাবে। এখানে প্রতিযোগিতাটা চলবে ডাটা অপটিমাইজড ক্লাউড প্লাটফর্ম ডেভেলপের, যা সক্ষম হবে হাই ভলিউম ডাটা ও/অথবা রিয়েলটাইম ডাটা স্ট্রিম দিতে। আইডিসি আরও বলেছে, ২০১৩ সালের তুলনায় ডাটা অ্যানালাইটিক সার্ভিসে ব্যয় ২১ শতাংশ বেড়ে ২০১৪ সালে দাঁড়াবে ৪৫০ কোটি ডলারে।

সাত. আগামী এক-দেড় বছর সোশ্যাল টেকনোলজি ক্রমবর্ধমান হারে সমন্বিত হবে বিদ্যমান এন্টারপ্রাইজ অ্যাপ্লিকেশনের সাথে। অধিকন্তু আইডিসি আশা করছে, এন্টারপ্রাইজ সোশ্যাল নেটওয়ার্ক আরও বেশি হারে প্রমিত আকারে পাওয়া যাবে ক্লাউড সার্ভিস প্রোভাইডারদের কাছ থেকে। আইডিসি’র পূর্বাভাস মতে, ২০১৭ সালের মধ্যে ‘ফরচুন ৫০০ কোম্পানি’র ৮০ শতাংশেরই থাকবে একটি অ্যাকটিভ কাস্টমার কমিউনিটি। আজ তা আছে ৩০ শতাংশ। ২০১৬ সালের মধ্যে ‘ফরচুন ৫০০ কোম্পানি’ গভীরভাবে চালু করবে ‘সোশ্যাল এনাবল্ড ইনোভেশন ম্যানেজমেন্ট সলিউশন’।

আট. ডাটা সেন্টারগুলো ক্লাউডের আড়ালে ভৌত ভিত্তি প্রতিনিধিত্ব করে। অতএব ডাটা সেন্টারগুলো থার্ড প্লাটফর্মের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। যখন ক্লাউড ডেডিকেটেড ডাটা সেন্টার সংখ্যায় ও গুরুত্তে বাড়ে, তখন সার্ভার, স্টোরেজ ও নেটওয়ার্কিং কম্পোন্যান্টের বাজার এগিয়ে নেন ক্লাউড সার্ভিস প্রোভাইডারেরা, যারা ঐতিহ্যগতভাবে সমর্থন জুগিয়েছেন বেশিমাত্রায় কমপিউটারায়িত ও পণ্যায়িত ডিজাইনের প্রতি। আজকের দিনের আইটি হার্ডওয়্যার ভেন্ডরেরা বাজারে বিক্রির কঠোর লড়াই করে চলেছেন। এরাও বাধ্য হবেন নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে একটি ‘ক্লাউড ফার্স্ট’ স্ট্র্যাটেজি অবলম্বনে।

নয়. থার্ড প্লাটফর্ম টেকনোলজি সরবরাহ করবে আগামী প্রজন্মের কমপিটিটিভ অ্যাডভান্টেজ অ্যাপ্লিকেশন ও সার্ভিস, যা কার্যত প্রায় শিল্প খাতের মার্কেট লিডারদের ব্যাপক ধরনের এক বিব্রতকর অবস্থায় ঠেলে দেবে। এ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ও পুনঃউদ্ভাবিত শিল্পে প্রতিযোগিতার একটি উপায় হবে জিই’র প্রেডিক্সের মতো ইন্ডাস্ট্রি ফোকাসড ইনোভেশন পস্ন্যাটফর্ম সৃষ্টি করা, যা ব্যাপকহারে ইনোভেটর কমিউনিটিকে আকর্ষিত ও সÿম করে তুলবে। আগামী কয় বছরে এমন ডজন ডজন-শত শত প্লাটফর্ম আবির্ভূত হবে। আইডিসি’র পূর্বাভাস মতে, এসব ইন্ডাস্ট্রি পস্ন্যাটফর্ম পেস্নয়ারদের বেশিরভাগই তাদের প্রয়োজনীয় ক্লাউড আন্ডারপিনিং রিইনভেন্ট করবে না। বরং করবে আমাজন, মাইক্রোসফট, আইবিএম, সেলসফোর্স ও অন্যান্য প্লাটফর্মের ওপর। ২০১৪ সালে এসব শীর্ষস্থানীয় আইটি লিডারদের জন্য গুরত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে এসব বিকাশমান ইন্ডাস্ট্রি প্লাটফর্ম প্লেয়ারদের খুঁজে পাওয়া ও তাদের ব্যবসায় জয় করে নেয়া।

দশ. ২০১৪ সালে স্মার্টফোন, ট্যাবলেট ও পিসিকে ছাপিয়ে থার্ড প্লাটফর্ম অব্যাহতভাবে সম্প্রসারিত হতে থাকবে ইন্টারনেট অব থিংসে। আইডিসি’র বিশ্বাস, ইন্টারনেট অব থিংসের দ্রুত গতিশীলতা সূত্রে প্রচলিত আইটি ভেন্ডরদের সাথে গ্লবাল টেলিকম সার্ভিস প্রোভাইডার ও সেমিকন্ডাক্টর ভেন্ডরদের সাথে পার্টনারশিপ ত্বরান্বিত হবে কনজ্যুমার ইলেকট্রনিকস ও কানেকটেড ভিভাইস স্পেসে সমন্বিত সুযোগ সৃষ্টির জন্য। এ ধরনের সহযোগিতা ও সমন্বয়ের প্রয়োজন হবে ৩ হাজার কোটি স্বায়ত্তশাসিত কানেকটেড অ্যান্ড পয়েন্টে পৌঁছার ও ৮.৯ ট্রিলিয়ন রাজস্ব আয়ের জন্য। আইডিসি মনে করে, ইন্টারনেট অব থিংস ২০২০ সালের মধ্যে এ রাজস্ব সৃষ্টিতে সক্ষম।

যেমন যাবে এশিয়া-প্যাসিফিকে

আইডিসি বলেছে, ২০১৪ সালে জাপান বাদে বাকি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ১০টি সেরা আইসিটির প্রবণতা দেখা যাবে। আইডিসি’র সর্বশেষ রিপোর্ট মতে, ২০১৪ সালে উল্লিখিত অঞ্চলে আইসিটি ব্যয় বাড়বে মোটামুটি ৯ শতাংশ হারে। এ প্রবৃদ্ধিতে মূলত অবদান এ অঞ্চলের বড় বড় বাজার- যেমন চীন, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মতো বিকাশমান বাজার। আইডিসি এশিয়া-প্যাসিফিকের ‘ইমার্জিং টেকনোলজি’র প্রিন্সিপাল ক্লাউস মর্টেনসেনের মতে, ২০১৪ সালে মানুষ কীভাবে আইটি-কে গ্রহণ করবে, তার ওপর থার্ড প্লাটফর্ম (যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বিগ ডাটা, ক্লাউড, মোবিলিটি ও সোশ্যাল) ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলবে। থার্ড পস্ন্যাটফর্ম বিপস্নব বয়ে আনবে সফটওয়্যার, কমিউনিকেশন, হার্ডওয়্যার ও এমনকি সার্ভিস খাতে।

‘IDC Asia/Pacific (excluding Japan) ICT 2014 Top 10 Predictions’ শীর্ষক রিপোর্টে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের জন্য নিমণরূপ ১০টি সেরা প্রবণতার কথা উল্লেখ করা হয়।

এক. বিওয়াইওডি’র স্থানে আসবে সিওয়াইওডি : ‘ব্রিং ইওর ওউন ডিভাইস’ (বিওয়াইওডি) মডেল চাকুরেদের জন্য সুযোগ করে দিয়েছে মোবাইলে থাকার। কিন্তু এর রয়েছে সিকিউরিটি সমস্যা। যেমন এন্টারপ্রাইজের স্পর্শকাতর তথ্য হারিয়ে যাওয়া। আইডিসি’র ভবিষ্যদ্বাণী হচ্ছে, বিভিন্ন সংস্থা তাদের মোবিলিটি কৌশলগতভাবে মূল্যায়ন করে নজর দেবে ‘চুজ ইওর ওউন ডিভাইস’ (সিওয়াইওডি)-এর প্রতি, যেখানে ২০১৪ সালে মেইন অ্যাডপশন মডেল হিসেবে বৈধ ব্যবহারকারীদের দেয়া হবে তাদের কাজে ব্যবহারের জন্য একটি চয়েজ ডিভাইস। সিওয়াইওডি’র মাধ্যমে ম্যানেজমেন্ট ও সিকিউরিটি প্রমিত মানে নিয়ে পৌঁছানো যাবে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, বিজনেস প্রসেস মোবিলাইজ করা যাবে।

দুই. সামাজিক ও প্রাসঙ্গিকভাবে সতর্ক হওয়ার জন্য ওয়ান টু ওয়ান মার্কেটিং পুনঃসংজ্ঞায়িত হবে : সম্পূর্ণ নতুন বিজনেস ভ্যালু সলিউশন সৃষ্টির জন্য বিগ ডাটা অ্যানালাইটিক, ক্লাউড, মোবিলিটি ও সোশ্যাল একযোগে আসে অভাবিতভাবে এবং প্রযুক্তি ক্ষেত্রে পাল্টে দেয়। এগুলো সুযোগ সৃষ্টি করে ইন্টেলিজেন্ট সলিউশন ও ইনোভেশনের, যা নিয়ে আসে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। আইডিসি’র মতে, ২০১৪ সাল হবে সেই ভিত্তি বছর, যেখানে এ পদ্ধতিগুলো ও টুলগুলোর সূচনা ঘটবে জাপান ছাড়া এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে। এর ফলে পার্সোন্যাল মার্কেটিংয়ের পুনঃসংজ্ঞায়ন ঘটবে ।

তিন. জিওলোকেশন ডাটা বিভিন্ন সংস্থার গ্রাহক সম্পর্ক উন্নয়নে সহায়তা করবে : আইডিসি’র মতে, জাপান বাদে এশিয়া-প্রশামত্ম মহাসাগরীয় অঞ্চলের অনেক সংস্থা প্রথমবারের মতো ২০১৪ সালে জিওলোকেশন ডাটায় প্রবেশের সুযোগ পাবে। সোজা কথায় জিওলোকেশন ডাটা ব্যবহার করে গ্রাহকদের জিওলোকেশন বিশ্লেষণ করতে পারবে। যেহেতু জিওলোকেশন বিভিন্ন ধরনের ডাটাকে সমৃদ্ধ করে তুলতে পারে এবং গ্রাহকের আচার-আচরণের তথ্যও জানিয়ে দেয়, তাই সংস্থাগুলো সৃষ্টি করতে থাকবে এমনসব অ্যাপ্লিকেশন, যা গ্রাহকদের কাছে বৈধ অনুমতি প্রার্থনা করবে তাদের বিহেভিয়ার ইনফরমেশন সংগ্রহ ও বিক্রির জন্য। আর এভাবেই গড়ে তোলা যাবে তাদের গ্রাহকদের সাথে সুসম্পর্ক।

চার. সার্ভিস হিসেবে বিগ ডাটার প্রবেশ ঘটবে : Big Data as a Service (BDaaS) হচ্ছে চারটি অফারিংয়ের একটি সমন্বয়- নন-ট্র্যানজেকশনাল ডাটা (সেন্সর রিডিং, ক্লিকস্ট্রিম ডাটা, ভিডিও ও সোশ্যাল ইন্টারেকশন); পর্যাপ্ত অ্যাভেইলিবিলিটি ও ক্লাশ্চারসহ ডাটা স্টোরেজ সার্ভিস; একই ক্লাউড প্রোভাইডারের দেয়া কমপিউটার রিসোর্স, যা ডাটা স্টোরেজ হোস্ট করে; কমপিউটার রিসোর্সের মতো একই ক্লাউড সার্ভিসে চলে এমন অ্যানালাইটিক টুলস ও প্রোডাক্টস অথবা ইন্ডাস্ট্রি স্পেসিফিকেশন। আইডিসি’র প্রত্যাশা, অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুরে গতিশীল প্রতিষ্ঠান ভিডিএএএস-কে কাজে লাগাবে তাদের উৎপাদনে।

পাঁচ. এক্স-কমার্সের বিস্ফোরণ উত্থান ঘটাবে নতুন কনজাম্পশন মডেল ও ইন্ডাস্ট্রিজের : আলোচ্য অঞ্চলের জন্য মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন বিশেষত উপযুক্ত। ফলে আইডিসি’র পূর্বাভাস হচ্ছে, বেশিরভাগ ই-কমার্স প্রোভাইডার অদূর ভবিষ্যতে মোবাইল শপিংয়ের জন্য তাদের সক্ষমতা বাড়িয়ে তুলবে। আশা করা হচ্ছে, ২০১৪ সালে বিভিন্ন ধরনের মোবাইল অ্যাপিস্নকেশন প্রোভাইডার কমিউনিকেশস, সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং ও গেমিং অ্যাপ্লিকেশনে কমার্স ফাংশন ইনকর্পোরেট করবে। হতে পারে এটি ই-কমার্স বিস্ফোরণ বিদ্যমান প্রায় একচেটিয়া কিংবা প্রাধান্যের অবসান ঘটাতে পারে।

ছয়. নতুন ধরনের ব্যবসায়িক বাধার আভাস দিয়ে টেকনোলজি ও ওয়েবভিত্তিক বড় বড় কোম্পানি চলে যাবে কাছাকাছি ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে : মনে করা হচ্ছে, ২০১৪ সালে টেলিকম সার্ভিস প্রোভাইডার, বড় বড় ওয়েব কোম্পানি এবং ওটিটিপিগুলো (ওভার দ্য টপ প্রোভাইডার) প্রথমবারের মতো পদক্ষেপ নেবে আইসিটি বাজারে নতুন ধরনের ব্যবসায়িক সুযোগ ধরার জন্য।

সাত. আইওটি বিপস্নব আনবে প্রোডাক্ট ও বিজনেস মডেলে : ২০১৪ সালে আইওটি (ইন্টানেট অব থিংস) নগরকর্ম, শিল্প পরিচালনা, কোম্পানি প্রতিযোগিতা, চাকুরেদের কর্ম ও ভোক্তাজীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। তা সত্ত্বেও শিল্প খাতকে এগিয়ে নেয়ায় ভূমিকা রাখার মতো প্রচুর ইনোভেশন আসতে পারে প্রচলিত ভেন্ডরদের পরিবর্তে নতুন আইওটি অ্যাপিস্নকেশন ভেন্ডরদের ও অ্যানালাইটিক কোম্পানির উদ্যোগের সূত্রে।

আট. বিজনেস ইনোভেশনের গলনপাত্র হবে পার্টনার কমিউনিটি পস্ন্যাটফর্মগুলো : এন্টারপ্রাইজগুলোর বিনিয়োগের অগ্রাধিকার থাকবে ইকোসিস্টেম আইসিটির ওপর, যেখানে টেকনোলজিকে এন্টারপ্রাইজ থেকে জুড়ে দেয়া হয় এর পার্টনার বা গ্রাহকের সাথে। আশা করা হচ্ছে, ২০১৪ সালে ইকোসিস্টেম আইসিটির ওপর অগ্রাধিকার বেড়ে যাবে। বিজনেস প্রসেসের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সাপস্নাই চেনের সাথে বেশি জড়িত। যেমন যেসব প্রতিষ্ঠান জড়িত ম্যানুফেকচারিং, হেলথ কেয়ার, লজিস্টিক, এফএমসিজি এবং গ্যাস ও তেল শিল্পের সাথে- সেগুলোই এ রুপান্তর পরিবর্তন তথা ট্র্যান্সফরমেটিভ চেঞ্জের জন্য আদর্শ প্রার্থী।

নয়. সফটওয়্যার ডিফাইন্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার হবে একটি ফরমাল ট্র্যান্সফরমেশন এজেন্ডা : কয়েক বছর ধরে বেস্ট অব ব্রিড পয়েন্ট সলিউশনস কেনার কারণে ডাটা সেন্টারের স্বাভাবিক কিছু জটিলতা অবসানে সফটওয়্যার ডিফাইন্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার খুবই সম্ভাবনাময়। ভবিষ্যৎ ডাটা সেন্টারে হবে জেনারেল পারপাস সার্ভারগুলো ও স্পেশিয়েল্টি সিস্টেমগুলো, যা ব্যবস্থাপনা করতে পারে বিভিন্ন কর্মভার বা ওয়ার্কলোড। আইডিসি’র পূর্বাভাস হচ্ছে এন্টারপ্রাইজেস- বিশেষ করে যেগুলো আগ্রাসীভাবে ক্লাউডের দিকে যাচ্ছে, সেগুলো সন্ধানে থাকবে অ্যাপ্লিকেশস অ্যাওয়ার এনভায়রনমেন্ট হিসেবে সফটওয়্যার ডিফাইন্ড ডাটা সেন্টারের এবং তা ক্রমবর্ধমান হারে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ২০১৪ সালটি হবে সেই বছর, যে বছরটিতে শুরু হবে সিআইও সম্পর্কিত আনুষ্ঠানিক আলোচনা।

দশ. ২০১৪ সাল হবে প্রকল্প ব্যর্থতার পরিপূর্ণ ঝড়- মোবিলিটি, অ্যানালাইটিকস, সোশ্যাল ও ক্লাউডের কম্বিনেশন : আইডিসি এর রিপোর্টে বলেছে, ২০১৫ সালের মধ্যে ব্যবসায়িক চাহিদা মেটানোর জন্য ক্রমবর্ধমান হারে এসব টেকনোলজির দ্রুত প্রয়োগ গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছার ক্ষেত্রে প্রকল্প ব্যর্থতার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলবে। এর ফলে সিআইওরা (চিফ ইনফরমেশন অফিসার) বাধ্য হবেন নতুন ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কৌশল অবলম্বন করতে। অপরদিকে অনেক প্রকল্প সফলতার সাথে পৌঁছে যাবে প্রডাকশন রেডি স্ট্যাটাসে, আরওআই টার্গেটগুলো সার্ভিস ম্যানেজমেন্টের অপর্যাপ্ত পরিকল্পনা থেকে হারিয়ে যাবে। তখন তা ক্লাউড স্পিড ও অঞ্চলজুড়ে প্রযুক্তি দক্ষতার অভাবের মিলিত প্রভাব প্রকল্প ব্যর্থতার সম্ভাবনাকে আরও বড় করে তুলবে। আঞ্চলিক সিআইওরা প্রকল্পঝুঁকি সম্পর্কে সজাগ নন এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রকল্প ব্যর্থতার এ সম্ভাবনা নতুন প্রযুক্তি অবলম্বনে নাটকীয় গতি এনে দেবে। তা সত্ত্বেও নতুন সার্ভিস ও বিজনেসে ম্যানেজারদের চাহিদা সিআইওদের বাধ্য করবে ঝুঁকি কমিয়ে আনার একটি উপায় খুঁজে বের করতে।

২০১৪ : সেরা দশ মার্কেট প্রিডিকশন
আইডিসি’র রিপোর্ট মতে, সিআইওরা অবশ্যই হবেন বিজনেস কোম্পানিগুলোর ইনোভেশন পার্টনার। এরা কোম্পানিগুলোকে সহায়তা দেবেন মোবাইল, সোশ্যাল, বিগ ডাটা ও ক্লাউড সার্ভিসে সর্বোচ্চ মূল্য নিশ্চিত করায়। আইডিসি’র রিপোর্ট মতে, ২০১৪ সালে সিআইওরা তাদের কাজে পরিবর্তন আনতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন এবং কীভাবে এরা তা সম্পাদন করবেন- যেহেতু মোবাইল, সোশ্যাল, বিগ ডাটা ও ক্লাউড সার্ভিসের তথাকথিত থার্ড প্লাটফর্ম গড়ে ওঠে ধীরে ধীরে। অ্যানালিস্ট ড্যাভিড ম্যাকন্যালি, জোসেফ পুকিয়ারেলি, ড. রন ব্যাবিন ও ফ্র্যাড ম্যাগি সম্প্রতি কো-হোস্ট করেছেন একটি webinar (web-based seminar), যেখানে শেয়ার করা হয়েছে সেরা দশ মার্কেট প্রিডিকশন, যেভাবে আগামী বছরগুলোতে সিআইওরা তাদের অর্গ্যানাইজেশনে পাল্টে দেবেন আইটিকে :

০১. দুই বছরের মধ্যে ৭০ শতাংশ সিআইও সরাসরি আইটি ব্যবস্থাপনা থেকে তাদের প্রাথমিক ভূমিকা পরিবর্তন করে হবেন ইনোভেশন পার্টনার।

০২. ২০১৭ সালের আগে ৪০ শতাংশ সিআইও’র উত্থান ঘটবে বিগ ডাটা ও অ্যানালাইটিকস থেকে বিজনেস এনহ্যান্সিং উৎপাদনে।

০৩. ৭০ শতাংশ সিআইও এন্টারপ্রাইজ এক্সপোজার বাড়িয়ে বর্ধিত ক্লাউড অ্যাডপশনের মাধ্যমে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেবেন ব্যবসায়িক ক্ষিপ্রটাকে ।

০৪. পরবর্তী প্রজন্মের মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনসহ একটি গতিশীল আর্কিটেকচারকে সাপোর্ট দিতে এন্টারপ্রাইজ মোবিলিটিতে ২০১৭ সালের মধ্যে ৬০ শতাংশ সিআইও প্রয়োজন হবে।

০৫. পাবলিক সোশ্যাল নেটওয়ার্কে ২০১৫ সালের মধ্যে সমন্বয়ের জন্য একটি জনসংখ্যাগত পরিবর্তন দরকার, যেখানে যুব ও মোবাইল গ্রাহকদের ভোক্তামুখী ব্যবসায়ে প্রয়োজন হবে ৮০ শতাংশ সিআইও’র।

০৬. থার্ড প্লাটফর্মের জন্য চাহিদা ৬০ শতাংশ সিআইও নিয়ে যাবেন প্রয়োজনীয় আইটি টুল হিসেবে এন্টারপ্রাইজ আর্কিটেকচারে ব্যবহারের জন্য, কিন্তু এন্টারপ্রাইজ আর্কিটেকচার কার্যকরভাবে নিয়োগ করবে মাত্র ৪০ শতাংশ।

০৭. ক্রমবর্ধমান ভালনারেবল লেগাসি সিস্টেমের জন্য ৬০ শতাংশ সিআইও সিকিউরিটি বাজেট ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ হবে এন্টারপ্রাইজ থ্রেট অ্যাসেসমেন্টের জন্য খুবই কম।

০৮. ২০১৭ সালের মধ্যে আইটির থার্ড পস্ন্যাটফর্ম ইনভেস্টমেন্ট থেকে লাইন অব বিজনেস বাজেটে স্থানান্তর করার জন্য প্রয়োজন হবে সিআইও’র ৬০ শতাংশ আইটি বাজেট বিজনেস ইনোভেশনে প্রক্ষেপণ করা।

০৯. ২০১৬ সালের মধ্যে আইটি বাজেটের ৮০ শতাংশই হবে আইটি ও বিজনেস সার্ভিস প্রোফাইলভিত্তিক।

১০. থার্ড প্লাটফর্ম আইটি টেকনোলজির অ্যাডপশনের ফলে ২০১৮ সালের মধ্যে ৯০ শতাংশ আইটি ভূমিকার নতুন করে সংজ্ঞায়িত হবে।

গার্টনারের বিশ্লেষণে ২০১৪ সালের আইটিবিশ্ব

গার্টনার বলেছে, ২০১৪ সালে আইটি ব্যয় এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ৭৬ হাজার ৭০০ কোটি ডলারে পৌঁছবে। ২০১৩ সালের তুলনায় তা সাড়ে ৫ শতাংশ বেশি। গত ২৮-৩১ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত ‘গার্টনার সিম্পোজিয়াম/আইটি এক্সপো ২০১৩’-এ গার্টনার এ কথা জানায়। গার্টনারের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও গ্লবাল হেড অব রিসার্চ পিটার সোন্ডেরগার্ড বলেন, আজ প্রতিটি বাজেট হচ্ছে আইটি বাজেট, প্রতিটি কোম্পানি একটি টেকনোলজি কোম্পানি, প্রতিটি বিজনেস হয়ে উঠছে একটি ডিজিটাল লিডার ও প্রতিটি ব্যক্তি হয়ে উঠছে একটি টেকনোলজি কোম্পানি- এসবের ফল হচ্ছে এক নতুন যুগের সূচনা, যার নাম ‘ডিজিটাল ইন্ডাস্ট্রিয়্যাল ইকোনমি’।
তার কথায়, এ ডিজিটাল ইন্ডাস্ট্রিয়্যাল ইকোনমি গড়ে উঠবে ‘নেক্সাস অব ফোর্সে’র ভিত্তির ওপর। এ নেক্সাস অব ফোর্সে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ফিজিক্যাল ও ভার্চুয়াল দুনিয়া একীভূত করার মাধ্যমে ক্লাউড, সোশ্যাল কোলাবরেশন, মোবাইল ও ইনফরমেশন এবং ইন্টারনেট অব এভরিথিংয়ের মিলিত প্রবাহ ও সমন্বয়। ডিজিটালাইজেশন আলোকিত করবে আপনার ব্যবসায়ের প্রতিটি অংশ। নতুন ডিজিটাল ইন্ডাস্ট্রিয়্যাল ইকোনমি চলবে সম্মিলিত নেতৃত্ব।’

ইন্টার অব থিংসের অর্থনৈতিক প্রভাব

গার্টনারের বিশেস্নষণ মতে, ২০০৯ সালে ২৫০ কোটি মোবাইল ডিভাইস অনন্য আইপি অ্যাড্রেস নিয়ে ইন্টারনেটের সাথে কানেকটেড ছিল। এসব ডিভাইসের বেশিরভাগই ছিল সেলফোন ও পিসি। ২০২০ সালে এসব ডিভাইসের সংখ্যা পৌঁছাবে তিন হাজার কোটিতে। এর ফলে সৃষ্টি হবে ‘ইকোনমি অব ইন্টারনেট অব থিংস’। ২০২০ সালের মধ্যে এ ইকোনমিতে মূল্য সংযোজন ঘটবে ১.৯ ট্রিলিয়ন ডলারের। আর এর উপকারভোগী হবে স্বাস্থ্যসেবা, রিটেইল ও ট্রান্সপোর্টের মতো আরও অনেক শিল্প খাত। গার্টনারের পিটার সোন্ডেরগার্ড বলেন, ইন্টারনেট অব থিংসের মাধ্যমে ডিজিটাল পরিবর্তন আনে আইটি মার্কেটে। ২০২০ সালের মধ্যে বছরে ইন্টারনেট অব থিংসের বার্ষিক বাজার ৩০ হাজার ৯০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে। মোবাইল স্মার্ট ডিভাইস দখল করে বসছে টেকনোলজির বাজার। ২০১৭ সালের মধ্যে নতুন ধরনের মোবাইল ডিভাইসের মধ্যে মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট ও আল্ট্রা-মোবাইল পিসির পেছনেই ব্যয় হবে মোবাইল ডিভাইসের ৮০ শতাংশ।

প্রসঙ্গ বাংলাদেশ

বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ওপর নিজস্ব কোনো ব্যাপকভিত্তিক জরিপ-বিশ্লেষণ নেই বললেই চলে। ফলে বর্তমানের ওপর দাঁড়িয়ে যথাযথ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নেয়া সম্ভব হয় না। আইডিসি ও গার্টনারের মতো পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষণ ও পূর্বাভাস তাই আমাদের জন্য এ ক্ষেত্রে বড় ধরনের একটি সুযোগ। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের ৭আইটি খাতকে এগিয়ে নিতে হলে এসব বিশ্লেষণ ও পূর্বাভাস মনোযোগের সাথে খতিয়ে দেখতে হবে। আর সে অনুয়ায়ী নিতে হবে আমাদের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপগুলো।
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস
অনুরূপ লেখা