Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > লেখা > গেমের জগৎ
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: কজ
মোট লেখা:১০৩১
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১৪ - জানুয়ারী
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
গেম
তথ্যসূত্র:
গেমের জগৎ
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
রেটিং: ০ মন্তব্য:০
গেমের জগৎ
ব্যাটলফিল্ড ৪

পৃথিবীর প্রত্যেকটি মানুষের এক জায়গাতে বেশ মিল আছে। তারা প্রত্যেকেই অবাঞ্ছিত বিপদ এড়িয়ে চলতে চায়। তবুও তাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা দুয়েকটি নয়, ৬৪ ধরনের বিপদ নিয়ে খেলা করতে পছন্দ করবেন। আরও সোজা করে বললে ব্যাটলফিল্ড ৪ খেলতে পছন্দ করবেন। ব্যাটলফিল্ড ৪ এমনই এক বিপজ্জনক গেম, যা খেলাঘরে নিয়ে যাবে গেমারকে। আর নতুন করে বলার কিছু নেই যে এখন পর্যন্ত ব্যাটলফিল্ড ডাইসের ফার্স্ট পারসন শুটিং কিংবদন্তী, যাতে পাওয়া যাবে ১৯৪২-এর বিশ্বযুদ্ধের বাস্তব আমেজ। সাথে আরও আছে ব্যাটলফিল্ড ২-এর কমান্ডিং ট্যাকটিক্স, বাসত্মববাদ, শ্রেণীবিন্যাস আর ব্যাটলফিল্ড ৩-এর অসম্ভব সুন্দর গ্রাফিক্স। ব্যাটলফিল্ড ৪-এর যুদ্ধক্ষেত্র হচ্ছে আজ পর্যমত্ম তৈরি হওয়া গেমগুলোর মধ্যে সবচেয়ে অজানা আর বাস্তব সম্মত যুদ্ধক্ষেত্র, যাকে গেমাররা ওয়াকথ্রু দিয়ে বর্ণনা করেও পুরোপুরি বোঝাতে ব্যর্থ হবেন।

ব্যাটলফিল্ড ৪-এর সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার এর যুদ্ধক্ষেত্র আকস্মিক ও যেকোনো ধরনের ধারাবাহিকতাবিহীন। ব্যাটলফিল্ড ৪ শুরু হয় বেশ বড় ধরনের ৩২ জন যোদ্ধার দল নিয়ে। শুরু হয় বিশাল এর বাঁধের বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে। যার পরে এক ভীষণ বন্যা এসে ভাসিয়ে নিয়ে যায় কয়েক টন রম্নবল। ভাসিয়ে নিয়ে যায় এলাকার অর্ধেক হোটেল আর স্নাইপারদের পছন্দসই সব জায়গা। সচরাচর এ ধরনের বড় দুর্যোগ দীর্ঘস্থায়ী ভূ-প্রাকৃতিক পরিবর্তন নিয়ে আসে, যা যোদ্ধাদের বাধ্য করে তাদের বুদ্ধিমত্তার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে। তাদেরকে ওই ভয়ঙ্কর বিভীষিকাময় পরিবেশে বেঁচে থাকতে সাহায্য করবে। প্রাথমিক ধাক্কা শেষ হয়ে যাওয়ার পর আবার এই ভেবে বসে থাকলে চলবে না যে তখন বিশ্রামের সময়, কারণ চারদিকে বিশ্বযুদ্ধের দামামা বাজছে। পানির সমস্যা শেষ হয়ে এলে বিশাল বিশাল ট্যাঙ্ক আর সাঁজোয়া যান ঝাঁকে ঝাঁকে মহড়া দিতে হাজির হয়ে যাবে। আর গেমারদের শুরু করতে হবে ব্যাটলফিল্ড ৪-এর যুদ্ধযাত্রা।

এখানে গেমারের জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিযোগী পরিবেশ, সবচেয়ে বড় বন্ধুও তাই। গেমারকে ব্যাটলফিল্ডের সচরাচর যুদ্ধের পাশাপাশি খুঁজতে হবে লুকানোর জন্য, বেঁচে থাকার জন্য, বাঁচিয়ে রাখার জন্য এলাকা। আর মৌলিক ব্যাটলফিল্ড গেমিংয়ের মতো যেকোনো স্ট্রাকচার ব্যাবহারযোগ্য ও ধ্বংসযোগ্য। গেমাররা সচরাচর গেরিলা আক্রমণ ও পস্ন্যান করা চোরাগোপ্তা হামলার ওপর বেশি গুরুত্ব দেন। আছে সম্পূর্ণ নতুন হাতাহাতি যুদ্ধের অস্ত্রভার, যেগুলো দিয়ে গেমাররা নিজেদের মতো করে সিগনেচার কিলিং মুভ তৈরি করতে পারবেন। ব্যাটলফিল্ড ৪ খেলার সময় গেমারকে একটি জিনিস প্রতিটি মুহূর্তে মাথায় রাখতে হবে-যেকোনো মুহূর্তের সুযোগই সবচেয়ে বড় যুদ্ধ জিতিয়ে দিতে পারে।

শ্যাডো

ক্যাসলভেনিয়া : লর্ডস অব দ্য শ্যাডো গেমটিকে ঠিক নতুন প্রকৃতির কোনো গেম বলা যাবে না, কারণ গেমটির প্রিক্যুয়াল কিংবা সিক্যুয়ালের সাথে এর তেমন কোনো মৌলিক পার্থক্য নেই বললেই চলে। তবে বেশ কিছু নতুন জিনিস অবশ্যই আছে। সেগুলোই থাকবে আজকের রিভিউতে। গেমার এখানে গ্যাব্রিয়েল বেলমন্ট, ব্রাদারহুড অব লাইটের এক দুঃসাহসী যোদ্ধা। বেলমন্টের প্রিয়তমা স্ত্রী ম্যারি ল্যান্ড সারাদেশে ছড়িয়ে পড়া অন্ধকার শক্তির আঘাতে মারা যায়। এরপর শোকাহত বেলমন্ট বেরিয়ে পরে অন্ধকারের এই ভয়ঙ্কর রাজত্বের তিনজন শ্যাডো লর্ডকে হত্যা করে দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনতে। আর গোপন আরেকটি মিশন চালিয়ে যেতে হবে বেলমন্টকে। সেটা হলো ম্যারিকে জীবনে ফিরিয়ে আনার। আর তাকে জীবনে ফিরিয়ে আনতে বেলমন্টকে তৈরি করতে হবে ‘গড মাস্ক’, যা তৈরি করতে ব্যবহার করতে হবে শ্যাডো লর্ডদের জীবনের অপভ্রংশ। গ্যাব্রিয়েলকে শুরু করতে হবে এমন এক যাত্রা, যা থেকে সে কোনোদিন জীবিত ফিরতে পারবে কি না কেউ জানে না।

গেমারকে পার হয়ে যেতে হবে ভয়ঙ্কর জঙ্গল, বিশাল এবড়োখেবড়ো পর্বতমালা, জটিল সব গোলকধাঁধা, পুরনো অট্টালিকা, পারদভর্তি গুহা, মৃত মানুষের দেশ ও ভয়াবহ আগ্নেয়গিরি। যুদ্ধ করতে হবে ভয়ঙ্কর সব দানব, ড্রাকুলা, কীটপতঙ্গ, কঙ্কাল প্রভৃতির সাথে। বেলমন্টের পুরো যাত্রাই প্রতিপদে বিপদসঙ্কুল আর আকস্মিকতায় ভরা। বিশেষ করে যারা গড অব ওয়ার সিরিজের গেমগুলো খেলে অভ্যস্ত, তারা ক্যাসলভেনিয়ার মধ্যে তাদের গেমিং আমেজ খুঁজে পাবেন। এর মধ্যে বেলমন্টকে বিভিন্ন ধরনের ধাঁধা সমাধান করতে হবে। আর শ্যাডো অব দ্য কলসাসের পাড় ভক্তরাও এখানে খুঁজে পাবেন তাদের পছন্দসই বিশালাকৃতির টাইটানদের সাথে যুদ্ধ ও পাশাপাশি যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্ব। খুঁজে ফিরতে হবে বহুদিন আগে হারিয়ে যাওয়া গুপ্তধন। গেমার ব্যবহার করতে পারবেন বিভিন্নভাবে অর্জন করা জাদুমন্ত্র আর অদ্ভুত ক্ষমতাসম্পন্ন সব অস্ত্র। আর ক্যাসলভেনিয়া সিরিজের আর সব গেমের মতোই এটিতেও আছে অপূর্বসুন্দর ব্যাকগ্রাউন্ড ন্যারেশন, যা গেমারকে প্রতিমুহূর্তে এনে দেবে নতুন উদ্যম।

ক্যাসলভেনিয়া সিরিজের সবচেয়ে বড় মাধুর্য লুকিয়ে আছে গেমগুলোর সাউন্ডট্র্যাকে। প্রত্যেকটি সুর যেনো বিশেষ করে ওই ধরনের পরিস্থিতির জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে। আর প্রত্যেক শ্যাডো লর্ডেরই আছে অদ্ভুত সব ক্ষমতা, যা গেমারের ক্ষমতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করবে। প্রত্যেকটি যুদ্ধে থাকবে অনন্যসাধারণ থ্রিডি শো, যা গেমারকে মুগ্ধ করবে। গেমের পুরোটাই সুন্দর গ্রাফিক্যাল টেক্সচার দিয়ে তৈরি। তাই গেমাররা গেমটিকে বেশ ভালোভাবেই উপভোগ করবেন বলা যায়। কারণ এ ধরনের ক্লাসিক গেমিং প্রোডাকশন ইন্ডাস্ট্রিতে খুব কমই আসে।

গেম রিকোয়ারমেন্ট

উইন্ডোজ : এক্সপি/ভিসতা/৭, সিপিইউ : কোর টু ডুয়ো/এএমডি অ্যাথলন, র্যা ম : ১ গিগাবাইট উইন্ডোজ এক্সপি/২ গিগাবাইট উইন্ডোজ ভিসতা/৭, ভিডিও কার্ড : ৫১২ মেগাবাইট, সাউন্ড কার্ড, কিবোর্ড ও মাউস।
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস