লেখক পরিচিতি
লেখা সম্পর্কিত
আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সুসম গ্রামীণ উন্নয়ন অপরিহার্য
স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সুসম গ্রামীণ উন্নয়ন অপরিহার্য। বিশাল জনগোষ্ঠির নিকট প্রযুক্তির সুফল নিশ্চিত করা গেলে ২০২১ সালের মধ্যে কাংখিত মধ্যম আয়ের দেশে প্রবেশ করা সহজতর হবে। গ্রামবাংলার অর্থনীতির উন্নয়নে প্রযুক্তির সংযোজনে প্রযুক্তিবিদদের গ্রামীণ জনপদের উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত করা গেলে এই কাংখিত লক্ষমাত্রা অর্জন সম্ভব। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার সে লক্ষ্যে কাজ করছে। জাতির অভীষ্ট এই লক্ষ্য অর্জনে প্রযুক্তির একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনীয়ার্স, বাংলাদেশ এর ঢাকা আঞ্চলিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এই অভিমত ব্যক্ত করেন।
গ্রাম বাংলায় প্রযুক্তির গণমুখী ব্যবহারের মাধ্যমে দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারে ৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় আইডিইবি কাউন্সিল হলে আইডিইবি ঢাকা আঞ্চলিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তৃণমূল নেতাদের এ অনুষ্ঠানে আইডিইবি ঢাকা সাংগঠনিক অঞ্চলের ৩৪ উপজেলার নেতৃবৃন্দসহ সকল জেলা শাখা সভাপতি ও নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলন মূল প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক কাজী নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আইডিইবি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও সার্ক ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ফোরাম এর কো-চেয়ারম্যান এ কে এম এ হামিদ। অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সার্ক ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ফোরাম এর সেক্রেটারি জেনারেল মোঃ শামসুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সম্মেলন বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও আইডিইবি’র ঢাকা জেলা শাখার সদস্য সচিব মোঃ মইনউদ্দিন।
সম্মেলনের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে প্রধান অতিথি বলেন, সমষ্টির ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস অব্যাহত থাকলে সকল অপশক্তির ষড়যন্ত্র ছিন্ন করে জাতি অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবে। তিনি বঙ্গবন্ধু’র সোনার বাংলা বিনির্মাণে আইডিইবি’র বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, প্রতিটি পেশাজীবী সংগঠন স্ব স্ব ক্ষেত্রে অনুরূপ ভূমিকা পালন করলে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে দেশ এগিয়ে যাবে। প্রধান অতিথি জাতির অভিন্ন স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বহু দলীয় গণতন্ত্রে মতপার্থক্যের মাঝেও সমষ্টির স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস গণতন্ত্র ও সুশাসনকে সুসংহত করে। বর্তমান সরকার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জাতীয় উন্নয়ন-উৎপাদনের মূল শক্তি হিসেবে মূল্যায়ন করে উল্লেখ করে প্রধান অতিথি গ্রামীণ সুসম উন্নয়নে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের আরো নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত থেকে অবদান রাখার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি আইডিইবি’র সভাপতি এ কে এম এ হামিদ গ্রামীণ অর্থনীতি উন্নয়নে প্রযুক্তিবিদদের গ্রামে অবস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এ লক্ষ্যে গ্রামীণ পোস্ট অফিস ও তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্রে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়োগদান করতে হবে। গ্রামের সকল স্কুলে ডিপ্লোমা প্রযুক্তিবিদ শিক্ষক নিয়োগ করাসহ তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। এব্যাপারে তিনি প্রধান অতিথির সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
মূল বক্তব্যে আইডিইবি’র সাধারণ সম্পাদক উল্লেখ করেন প্রযুক্তিমনস্ক জাতি গঠন ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সমাজ গড়ার প্রস্তুতি, পরিকল্পিত গ্রাম উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, গ্রামীণ যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন, শহর মেগা শহরের উপর চাপ কমিয়ে গ্রামকে অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্রে পরিণত, প্রযুক্তিকে গ্রামের মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে গ্রামকে কুসংস্কারমুক্ত, কৃষি ও কৃষককে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর করা, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় গ্রামীণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত, গ্রামে কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপনে সহযোগিতা, গ্রামের উন্নয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত, গ্রামের মানুষকে প্রযুক্তি পরামর্শ প্রদানে সহযোগিতা,গ্রামের মানুষকে প্রযুক্তি পরামর্শ তথা প্রযুক্তি সেবা প্রদান ও এই সেবা টেকসই করার লক্ষ্যকে সামনে রেখে সম্মেলনে সদস্য প্রকৌশলীদের কার্যক্রম নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ সকল কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ সহজতর হবে। তিনি এই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে গ্রামীণ জনপদে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগে সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন। বক্তব্যে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের পেশাগত ৭ দফা দাবি সরকারের প্রতিশ্র“তি অনুযায়ী অবিলম্বে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।