Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > আইটি খবর > ৬ শীর্ষস্থানীয় আইটি সংগঠনের রোডম্যাপ উপস্থাপন
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: কজ রিপোর্টার
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১২-১০-০৫
রেটিং: ০ মন্তব্য:
৬ শীর্ষস্থানীয় আইটি সংগঠনের রোডম্যাপ উপস্থাপন

৩ অক্টোবর বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে “টেলিকম নেটওয়ার্ক ভিত্তিক দেশীয় অ্যাপ্লিকেশন ও কনটেন্ট সার্ভিস শিল্প বিকাশের জন্য রোডম্যাপ” শীর্ষক একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তথ্য প্রযুক্তি শিল্পের ৬টি শীর্ষ স্থানীয় বাণিজ্য সংগঠন- বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি, (BCS ), বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সফ্টওয়্যার এন্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস, (BASIS), ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ISPAB), বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব কল সেন্টার এন্ড আউটসোর্সিং (BACCO), বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইমপোর্টারস এসোসিয়েশন, (BMPIA) ও কনটেন্ট প্রোভাইডরস এন্ড এগ্রিগেটরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (CPAAB) এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পেশ করেন বেসিস সভাপতি একেএম ফাহিম মাসরুর। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিসিএস সভাপতি মোঃ ফয়জুল্লাহ খান, আইএসপিএবি সভাপতি আকতারুজ্জামান মঞ্জু, বাক্য সভাপতি আহমাদুল হক, বিএমপিআইএ সভাপতি মোস্তফা রফিকুল ইসলাম, সিপিএএবি সভাপতি সাইফুল ইসলাম এবং বিসিএস এর পরিচালক মোস্তফা জব্বার বক্তব্য রাখেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় যে, বিগত বছরগুলোতে দেশে টেলিযোগাযোগ খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। বর্তমানে দেশে ৯ কোটির বেশি টেলিফোন সংযোগ রয়েছে যার বড় অংশই মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে। দেশে বর্তমানে ২৫ হাজার কোটি টাকার মোবাইল সেবার বাজার রয়েছে। কিন্তু এর মাত্র ২%-এরও কম Content I Application এর অংশ। যেকোনো উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে এই হার ১০% এর বেশি। সেই হিসেবে আমাদের মোবাইল Content I Application এর বাজার ২,৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা সম্ভব। ্এটি আগামী ২-৩ বছরে ৫,০০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা যাবে এবং এতে অন্তত:পক্ষে ১ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে বক্তারা উল্লেখ করেন। বর্তমানে দেশে ৩০ হাজারেরও বেশি আইটি প্রফেশনাল ও উদ্যোক্তা দেশের বাইরের বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তি সেবা খাতে কাজ করছে এবং নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ রেখেছে।

বক্তারা আরো বলেন, দেশের ভিতরে এই বিশাল সম্ভাবনা যদি আমাদের তরুণদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া যায় তাহলে যে একদিকে শুধু বিশাল সংখ্যক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে তাই নয়, দেশীয় Content I Application তৈরির মাধ্যমে ৯ কোটির বেশি টেলিকম গ্রাহক বিভিন্ন ধরনের ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস (ঠঅঝ) সেবা পাবে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করতে পারবে। গত কয়েক বছরে টেলিকম শিল্পের অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধিত হলেও এর যথাযথ ও পরিপূর্ণ ব্যবহার সম্ভব হয়নি। এখনো ঠঅঝ এর ব্যবহার Content I Application) শুধুমাত্র রিংটোন ও ওয়ালপেপারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ বলে তারা উল্লেখ করেন। দেশের ভিতর এই শিল্প গড়ে উঠলে ভবিষ্যতে আমরা দেশের বাইরেও এই সেবা রপ্তানী করতে সক্ষম হবো এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।




-২-

আয়োজক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয় যে, টেলিকম নেটওয়ার্ক ভিত্তিক দেশীয় অ্যাপ্লিকেশন ও কনটেন্ট সার্ভিস শিল্প বিকাশের জন্য উপযুক্ত ব্যবসায়িক পরিবেশ (Eco system) সৃষ্টি হয়নি । এর প্রধান কারণসমূহ হলো : : Unfair Revenue Sharing, Entry Barrier, Inter operability ু বলে তারা উল্লেখ করেন। এখনো পর্যন্ত ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস (ঠঅঝ) তথা দেশীয় Content I Application এর ব্যাপারে কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা গাইডলাইন বা নীতিমালা প্রণীত হয়নি। কোনো গাইডলাইন বা নীতিমালা না থাকতে এই শিল্পে দেশীয় নতুন উদ্যোক্তাদের প্রবেশের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে না। উদ্যোক্তাদের জন্য তাদের উদ্ভাবনের মেধাসত্ত্ব (IPR Protection) সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা নেই এবং টেলিকম নেটওয়ার্ক ভিত্তিক দেশীয় অ্যাপ্লিকেশন ও কনটেন্ট সার্ভিস শিল্প বিকাশের লক্ষ্যে নতুন উদ্যোক্তাদের সহায়তার (আর্থিক বা প্রশিক্ষণ সহায়তা) কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেই বলে তারা উল্লেখ করেন।

গত ৩১ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় কর্তৃক একটি ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস ঠঅঝ গাইডলাইনের খসড়া প্রণীত হয়েছে যা সরকারের অত্যন্ত সময়পোযোগী পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করে তথ্য প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট সকল এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত ঠঅঝ গাইডলাইনের অতিসত্ত্বর বাস্তবায়ন দাবী করেন। সেইসাথে সরকারের পক্ষ থেকে তরুণ ও মেধাবী উদ্যোক্তাদের জন্য আর্থিক সহায়তা বা স্বল্পসুদে ঋণের ব্যবস্থা থাকা উচিত বলেও তারা মত প্রকাশ করেন। প্রয়োজনীয় ও প্রশিক্ষিত জনবল তৈরির লক্ষ্যে সকল বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোবাইল Content I Application পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত থাকা সমীচীন বলে তারা মনে করেন।
সঠিক ও প্রয়োজনীয় নীতি বাস্তবায়ন ও সহায়তা প্রদান করা গেলে শুধুমাত্র টেলিকম ভিত্তিক স্থানীয় Content I Application শিল্পে আগামী ২-৩ বছরে ৫ হাজার কোটি টাকার স্থানীয় বাজার তৈরি করা সম্ভব বিধায় এ ব্যাপাওে সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপ প্রত্যাশা করে দেশের শীর্ষস্থানীয় ৬টি তথ্য প্রযুক্তি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মোবাইল টেলিকম অবকাঠামো ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবা (শিক্ষা, স্বাস্থ্য, তথ্যসেবাসহ নানান ধরনের প্রয়োজনীয় সেবা) প্রদান করে সাধারণ নাগরিকদেরও জীবন মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং বিটিআরসি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং প্রস্তাবিত ঠঅঝ গাইডলাইনের অতিসত্ত্বর বাস্তবায়ন দাবী করেন।
খবরের ছবিগুলো