লেখক পরিচিতি
লেখা সম্পর্কিত
আজ শেষ হচ্ছে ‘বিসিএস ডিজিটাল এক্সপো কুমিল্লা ২০১২’
দর্শকদের আগ্রহ, উপস্থিতি আর বিক্রেতাদের জমজমাট বিকিকিনির মধ্য দিয়ে আজে শেষ হচ্ছে কুমিল্লার বৃহত্তম কম্পিউটার মেলা ‘বিসিএস ডিজিটাল এক্সপো কুমিল্লা ২০১২’। গত ০৯ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই প্রদর্শনীতে কুমিল্লার প্রযুক্তিপ্রিয় জনগণের উপস্থিতি, প্রযুক্তির প্রতি তাদের আগ্রহ, স্কুল শিক্ষার্থীদের সরব পদচারণা এবং শিশুদের বিশেষ উপস্থিতি মেলায় এনেছে বৈচিত্র্যতা। ঝাঁকে ঝাঁকে শিক্ষকসমেত স্কুল শিক্ষার্থীরা এসেছে মেলায়, পরীক্ষার ভীড়েও তারা ভুলেনি প্রর্দশনীতে এসে প্রযুক্তির ছোঁয়া নিতে, সময়ের আধুনিক প্রযুক্তি পণ্যটির সাথে পরিচিত হতে। গেমিং জোনের ভীড় শেষদিনে আরও বেড়েছে। শেষ দিনের শুরুতেই সববয়সী দর্শকরা ভীড় জমায় প্রদর্শনী প্রাঙ্গণে। গত কদিনের তুলনায় এদিনে বিক্রিও বেড়েছে। দর্শকরাও বিভিন্ন ছাড়ে আর উপহারে তাদের পছন্দের প্রযুক্তি পণ্যটি কিনে নিয়েছে। মেলার বিভিন্ন স্টলে বিভিন্ন মডেলের পণ্যের উপর বরাবরের মতো ছাড় অব্যাহত ছিলো। মেলায় আগত ক্রেতারাও সে সুযোগে কিনে নিয়েছেন তাদের প্রয়োজনীয় পছন্দের পণ্যটি। মেলায় আসা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী উম্মে ছালমা অর্থি জানায় ভালো মানের এবং বিখ্যাত সব ব্রা- এক জায়গায় থাকায় পছন্দ ও ক্রয়ে যেমন সুবিধা হয়, তেমনি আছে কিছু ছাড় আর উপহার, তাই সে সুযোগ নিতে মেলায় আসা। মেলায় বিকিকিনি ছাড়াও সমানতালে চলেছে কুইজ ও গেমিং প্রতিযোগিতা । শেষ বিকেলে মেলায় তীল ধারণের ঠাঁই ছিলো না, বিপুল দর্শকের উপস্থিতিতে মেলা প্রাঙ্গনে নিয়ে এসেছে পরপিূর্নতা। রাত ৮ টায় কান্দিরপাড়স্থ ইউরো কিং পার্টি সেন্টারে ‘বিসিএস ডিজিটাল এক্সপো কুমিল্লা ২০১২’ এর সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে মেলার বিক্রীত টিকেট নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় র্যাফেল ড্র যেখানে রয়েছে ল্যাপটপসহ ২০ টি আকর্ষনীয় পুরষ্কার।
উল্লেখ্য গত ০৯ অক্টোবর শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ষ্টেডিয়াম-জিমনেসিয়াম, কুমিল্লায় ৫ দিনব্যাপী ‘বিসিএস ডিজিটাল এক্সপো কুমিল্লা ২০১২’ শিরোনামে এ অঞ্চলের বৃহত্তম কম্পিউটার মেলা শুরু হয়। কুমিল্লার জেলা প্রশাসক জনাব মো: রেজাউল আহসান ০৯ অক্টোবর প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। জিমনেসিয়ামের প্রায় ১০,০০০ বর্গফুট স্থান জুড়ে ৩২টি স্টল ও ৬ টি প্যাভেলিয়নে ২৭ টি প্রতিষ্ঠান তথ্যপ্রযুক্তি সামগ্রী প্রদর্শন করেছে। প্রদর্শনীর শুরু থেকেই এখানকার স্কুলশিক্ষার্থীসহ সববয়সীদের পদচারণায় মুখর ছিল মেলা প্রাঙ্গন।
প্রর্দশনীতে তথ্যপ্রযুক্তির দেশী-বিদেশী জনপ্রিয় ও সুপরিচিত ব্র্যান্ড, আমদানিকারক, প্রস্তুতকারক ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ও সফ্টওয়্যার পণ্যসামগ্রী, নেটওয়ার্ক ও ড্যাটা কমিউনিকেশন, টেলিকম সেবা ও পণ্যসামগ্রী, মাল্টিমিডিয়া, আইসিটি শিক্ষা উপকরণ, ল্যাপটপ, ডিজিটাল জীবনধারাভিত্তিক প্রযুক্তি ও পণ্য ইত্যাদির উন্নত ও হালনাগাদ সংস্করণ প্রদর্শন করেছে।
মেলার প্রবেশ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিলো ১০ টাকা। বিসিএস এর ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এ প্রদর্শনীতেও স্কুল শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র দেখানো সাপেক্ষে বিনামূল্যে প্রবেশের ব্যবস্থা ছিলো। এছাড়া প্রদর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়োজনে মেলায় ছিলো বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি পণ্যের বিশেষায়িত প্রদর্শনী ও কুইজ প্রতিযোগিতা।
মেলার প্লাটিনাম স্পন্সর হিসেবে ছিলো ফুজিতসু, মাইক্রোল্যাব এবং নরটন; গোল্ড স্পন্সর হিসেবে ছিলো দেশের শীর্ষস্থানীয় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লি:, সেইফ আইটি সার্ভিসেস লি: এবং ইউনাইটেড কম্পিউটার সেন্টার, সিলভার স্পন্সর হিসেবে বিখ্যাত প্রজেক্টর ব্র্যান্ড হিটাচী। টিকেট স্পন্সর আইটি প্যালেস, টিকেট কাউন্টার স্পন্সর ক্যাসপারষ্কি ল্যাব এবং সমাপনী অনুষ্ঠান স্পন্সর হিসেবে ছিলো বিজনেসল্যান্ড লি:।
প্রর্দশনী প্রাঙ্গনে বিসিএস এর নিয়ন্ত্রণ কক্ষ মেলার সার্বিক ব্যবস্থাপনা এবং সকল প্রকার তথ্যসরবরাহের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলো। এখান থেকে যে কোন রকমের তথ্য ও সেবা নিতে পারবেন যে কেউ। এ ছাড়াও মেলায় আগত দর্শনার্থী, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের যে কোন ধরনের সহায়তার জন্য একটি বিশেষ টিম মেলা প্রাঙ্গনে নিয়োজিত থাকবে। মেলায় সাধারণ নিরাপত্তা, লোকচলাচল নিয়ন্ত্রণ, পণ্য বিক্রি এবং টিকেট চেকিং এর জন্য বিশেষ নিরাপত্তা দল সব সময় কাজ করবে।