Computer Jagat Portal-Product Details-ওয়ারহ্যামার ৪০ হাজার-ডাওন অব ওয়ার ২
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা


হোম > পণ্য > গেম > ওয়ারহ্যামার ৪০ হাজার-ডাওন অব ওয়ার ২
পন্যের নির্ভরতা
অবমুক্তি তারিখ:২০০৯-০৪-২৪ ধরন: কমপিউটার গেম
ইউজার'স রেটিং: এক্সপার্ট'স রেটিং: হিটস্:৬৮৭ ০ মন্তব্য:১
ওয়ারহ্যামার ৪০ হাজার-ডাওন অব ওয়ার ২
মূল্য :সংযোজিত হয়নি
পণ্যের বর্ণনা



পৃথিবীর বুকে বসবাস করে নানা প্রাণী, নানা জাতের গাছপালা। বৈচিত্র্যে ভরা এই ধরায় রয়েছে পাহাড়-পর্বত, রয়েছে বিশাল মরুভূমি, অথই সাগর, সেই সাথে আরো কত কি? বাস্তবের দুনিয়ার সাথে গেমের দুনিয়ার পার্থক্য ব্যাপক। অনেক গেমের পুরো পরিবেশ এবং প্রেক্ষাপট হয় কাল্পনিক, কিছু হয় অতিকাল্পনিক। বাস্তবতা ও কল্পনার সংমিশ্রণেও জন্ম হয়েছে অনেক গেমের। পৃথিবীর ইতিহাসে রয়েছে কয়েক ধরনের জাতি। এদের মধ্যে রয়েছে ককেশীয়, মঙ্গোলীয়, নিগ্রো, অস্ট্রেলীয় ও ক্যাপীয়। কিন্তু গেমের জগতে রয়েছে আরো অনেক জাতি। ওর্ক, ইলফ, নাইটইলফ, আনডেড, গবলিন ইত্যাদি নানারকম কাল্পনিক জাতির আবির্ভাব শুধু গেমের জগতেই সম্ভব।

গেমের মধ্যে রয়েছে অনেক ভাগ। এর মধ্যে অন্যতম একটি ভাগ হচ্ছে স্ট্র্যাটেজি গেম। আবার স্ট্র্যাটেজি গেমের ক্ষেত্রে রয়েছে অনেকগুলো ভাগ : ট্যাক্টিক্যাল, রিয়েল টাইম, ফ্যান্টাসি ইত্যাদি। এসব গেমের মধ্যে গেমারকে রিসোর্স সংগ্রহ করতে হয়, নানারকম স্থাপনা তৈরি করতে হয় এবং ইচ্ছেমতো ইউনিট বানিয়ে তা দিয়ে যুদ্ধ জয় করতে হবে। স্ট্র্যাটেজি গেমগুলোর মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে যুদ্ধে জয়লাভ করা। স্ট্র্যাটেজি গেমভক্তরা ওয়ারহ্যামার সিরিজের গেমের সাথে হয়তো পরিচিত। গেমটি অন্যান্য স্ট্র্যাটেজি গেমের তুলনায় বেশ ভালো বলা যায়, কারণ, এর গেমপ্লে কিছুটা ভিন্ন ধাঁচের এবং গ্রাফিক্স কোয়ালিটিও বেশ ভালোমানের।


ডাউন অব ওয়ার নামের গেমটি দিয়ে ওয়ারহ্যামার ৪০,০০০ সিরিজের যাত্রা শুরু হয় ২০০৪ সালের শেষের দিকে। গেমটি ডেভেলপ করে রিলিক এন্টারটেইনমেন্ট এবং রিলিজ দেয় টিএইচকিউ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। গেমটির যাত্রাপথে বের হয়েছে তিনটি এক্সপানশন প্যাকের। ২০০৫ সালে বের হয়েছিল প্রথম এক্সপানশন উইন্টার অ্যাসল্ট, ২০০৬-এ বের হয়েছিল ডার্ক ক্রুসেড এবং ২০০৮ সালে মুক্তি পেয়েছিল সোলস্টর্ম। এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে বের হয়েছে এই সিরিজের ২য় পর্ব ডাউন অব ওয়ার ২। নতুন এই গেমের সাথে আগের গেম এবং তার এক্সপানশনগুলোর রয়েছে দারুণ তফাৎ। এই সিরিজের গেমগুলো মূলত সায়েন্স ফিকশনভিত্তিক। আগের গেমে রিসোর্স সংগ্রহ করার পাশাপাশি বেস বানানো এবং ইউনিট বানানোর ব্যবস্থা ছিল, কিন্তু নতুন এই পর্বে এসব কিছুই নেই। এতে রিসোর্স সংগ্রহ করা বা বেস এক্সপানশন করার পরিবর্তে দেয়া হয়েছে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্র। যাতে নির্দিষ্ট সংখ্যক ইউনিটের সহযোগিতায় নিজের ঘাঁটি ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে এবং শত্রুপক্ষকে শিক্ষা দিতে হবে। গেমে শত্রুপক্ষের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স খুবই উন্নতমানের ও বাস্তবসম্মত। কারণ, তারা আলাদা আলাদা দলে ভাগ হয়ে একেক অবস্থান থেকে আক্রমণ চালায়, রেঞ্জ ইউনিটকে মারতে গেলে দূরে সরে যায়, গায়ে গুলি লাগার হাত থেকে বাঁচার জন্য কাছের প্রতিবন্ধকের আড়ালে অবস্থান নেয়, গেরিলা হামলা চালায়, টাইমবোমা ছুড়ে মারলে ওই স্থান থেকে সরে যায় ইত্যাদি আরো কাজ করে যা বাস্তবসম্মত। তাই বুঝতেই পারছেন প্রতিপক্ষ দুর্বল নয়, তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জেতার জন্য খুব হিসেব কষে খেলতে হবে, তা না হলে বেশ বেগ পোহাতে হবে তাদের শায়েস্তা করতে।

গেমটিতে চারটি জাতি নিয়ে খেলার সুবিধা রয়েছে। এগুলো হলো- স্পেস মেরিন, কেওস স্পেস মেরিন, ওর্ক ও এল্ডার। এদের মধ্যে স্পেস মেরিন জাতিটি হচ্ছে অতিমানবিক ক্ষমতাসম্পন্ন মানবজাতি। তাদের দেহের কিছু বায়োলজিক্যাল পরিবর্তন ঘটিয়ে তাদের এমনভাবে গড়ে তোলা হয়েছে যাতে তারা আরো শক্তিশালী, অপ্রতিরোধ্য ও দীর্ঘায়ু হয়। ছোটবেলা থেকেই তাদের অনেক রকমের প্রশিক্ষণ দিয়ে গ্রহকে বাইরের পরাশক্তির হাত থেকে রক্ষার কাজ করার জন্য বড় করে তোলা হয়। সিঙ্গল পে¬¬য়ার ক্যাম্পেইনে এই দল নিয়েই খেলতে হবে গেমারকে। মাল্টিপে-য়ার বা স্কিরমিশ মোডে বাকি জাতিগুলো নিয়ে খেলা যাবে। কেওস স্পেস মেরিন জাতি হচ্ছে মূল জাতির বিদ্রোহী গোষ্ঠী, যারা স্পেস মেরিনের বিপক্ষে লড়াই করবে। ওর্করা হচ্ছে দানবাকৃতির শক্তিশালী জাতি। এই ইউনিটের গতি কম কিন্তু আঘাত করার ক্ষমতা মারাত্মক। এল্ডাররা হচ্ছে অনেক পুরনো ইলফ জাতি, তারা প্রকৌশলগত দিক থেকে স্পেস মেরিন ও ওর্কদের চেয়ে অনেক উন্নত এবং খুবই ক্ষিপ্র গতিসম্পন্ন। কিন্তু তাদের আঘাত করার ক্ষমতা একটু কম। বাকিদের তুলনায় স্পেস মেরিনদের গতি ও আঘাত করার ক্ষমতা মোটামুটি।

এই গেমে গেমারের ভূমিকা হচ্ছে নিজ জাতির ঘাঁটি ক্যালডেরিস, টাইফন ও মেরিডিয়ান গ্রহ দখল করে রাখা। গেমারকে ফোর্স কমান্ডার হিসেবে যুদ্ধ পরিচালনা করতে হবে। যুদ্ধক্ষেত্রে অবতীর্ণ হবার আগে বাছাই করে নিতে হবে চারটি টিম, যাদের নিয়ে আপনি খেলতে চান। এদের মধ্যে রয়েছে স্নাইপার বাহিনী, সামনাসামনি লড়াই করার জন্য শক্তিশালী বাহিনী, দূর থেকে গুলি করার জন্য বাহিনী, স্কাউট বাহিনী, অনেক উঁচুতে লাফিয়ে যেতে সক্ষম এমন সৈন্যদল এবং স্কাউট। প্রতিযুদ্ধে জয়লাভের পর টিমগুলোর লেভেল আপগ্রেড করা যাবে এবং সেই সাথে অস্ত্র বদল করা যাবে। গেমে কোনো টিমের কমান্ডার আহত হলে তাকে আবার সুস্থ করে তোলা যাবে, তাই গেমে টিম লিডার হারানোর ভয় নেই। সৈন্য মারা গেলে কিছু কিছু পয়েন্ট থেকে আবার রিইনফোর্সমেন্ট এনে নেয়া যাবে। খেলার মিশন সিলেক্ট করার ব্যাপারটা একটু ভাবার বিষয়, কারণ কোন মিশন আগে খেললে বেশি ভালো হবে তা আপনাকে নির্ধারণ করতে হবে। বেশিরভাগ মিশনেই আপনাকে শত্রুপক্ষের কমান্ডারদের হারাতে হবে। বস হিসেবে তাদের আবির্ভাব হবে এবং তাদের মারতে গিয়ে আপনার পুরো টিমের বারোটা বেজে যাবে। কারণ, একাই শত্রুপক্ষের বস আপনার পুরো দলকে নাস্তানাবুদ করতে সক্ষম।



গেমের গ্রাফিক্স, সাউন্ড কোয়ালিটি, কমান্ডিং ভয়েস, পরিবেশ, নানা ইউনিট, অস্ত্রের ভিন্নতা ইত্যাদি সবকিছু মিলিয়ে গেমটি দারুণ এক রিয়েল টাইম স্ট্র্যাটেজি গেম।

গেমটি খেলার জন্য প্রয়োজন হবে:

গেমটি চালাতে খুব একটা উঁচুমানের পিসির প্রয়োজন নেই। পেন্টিয়াম ৪, ৩.২ গিগাহার্টজের প্রসেসর, ১ গিগাবাইট মেমরির র্যা ম, ৫.৫ গিগাবাইট হার্ডডিস্ক স্পেস ও ১২৮ মেগাবাইট মেমরির জিফোর্স ৬৬০০ জিটি বা এটিআই এক্স ১৬০০ হলেই মোটামুটি ভালোভাবে গেমটি চালানো যাবে। গেমিং পারফরমেন্স আরো একটু ভালো করার জন্য ডুয়াল কোর প্রসেসর, ২ গিগাবাইট র্যাাম ও ভালো সিরিজের গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহার করতে পারেন।

কজ ওয়েব

ফিডব্যাক : shmt_21@yahoo.com
পন্যের ছবিগুলো
অনান্য লিঙ্কস